মানসজঙ্গল ভ্রমণ পর্ব-৩ ও ৪ (আসাম) পানবাড়ি রেঞ্জ ও ভূঁইয়াপাড়া রেঞ্জ

বিস্ময়পুর ভ্রমণ পত

পানবাড়ি রেঞ্জ (রোমাঞ্চের দুই ডানায় যখন ভর করে অনন্ত বিস্ময় ও বিমূর্ত রহস্য)

বিস্ময়চোখে বিস্তৃতি দিয়েছে এই ভ্রমণ। আগের দুটো পর্বে ছিলো বাঁশবাড়ি রেঞ্জ, পানবাড়ি মানসের এই বিশাল জঙ্গলের আরেক দিক। বয়সজনিত কারণে বাবা, মা সেদিন রেস্ট নিলো, আমরা, আমি, দিদি, ঋতু, মামমাম আর মিঠাই ভোর ৬টায় প্রায়ান্ধকার অবস্থায় কুয়াশাজড়ানো আর এক রাস্তায় বেরোলাম। আহা! পথ তখন পথের নেশাকেই আলিঙ্গন করছে। গাড়ি চালাচ্ছে ইজিকেল।  হ্যাঁ আমাদের সারথির নাম , পঙ্কজ পাঠিয়েছে। নাম উচ্চারণ করতে পাঁচবার হোঁচট খেয়ে গাড়িতে উঠলাম। বড়পেটা রোড থেকে এর দূরত্ব ৩৫ কিমি, গুয়াহাটি থেকে ১৫০ কিমি(তথ্য অনুযায়ী) । প্রকৃতিকে দেখে মনে হচ্ছিলো - ' লুকোনো আলোর কোলসকল খুলে পড়বে পাখিদের চিৎকারে'। কত কত ভিলিঙ্গ পাখি উড়ে যাচ্ছে স্বরবর্ণের দেশে।  পাখিটানা এই আকাশে ভোরের সূর্য কথা বলে, যন্ত্র-মন্ত্র নয়, এক শাশ্বত আহ্বান। আমাদের পৌঁছতে প্রায় ঘন্টা দুয়েক লাগলো, জঙ্গলে ঢোকার আগে সামান্য জলখাবার খেলাম।

'আমার আর বোনির জন্য চিপ্স নেবে ভাই' - যে খাবারই খাওয়ানো হোক, চিপ্সের প্রতি ওদের অদম্য আগ্রহ, গ্রহ ছাড়িয়ে গ্রহে যার বিস্তার।  এখানে এই জঙ্গলে ঢোকার পারমিট থেকে ক্যামেরা- চার্জ, সবই  অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়। সে সবই ক'রে রেখেছিলো পঙ্কজ। ফলে ট্যুরিস্ট হিসেবে আমাদের নো চাপ। 

'এ যে দৃশ্য দেখি অন্য /এ যে বন্য এ অরণ্য' - ভেতর গেয়ে উঠলো। 

-কাকু তুমি বন্দুক চালাও না তো?
-চালাই।
-কাকু আমি গান করতে পারি একটা?
-করো
'খর বায়ুবয় বেগে...  বাইয়ো বাইয়ো, বাইয়ো'

ব'লে নিই এই ফাঁকে,  পানবাড়ি রেঞ্জে ট্যুরিস্ট চলাচল খুব কম, ফলে গভীর জঙ্গলে বন্দুকধারীর সঙ্গ এখানে বাধ্যতামূলক।  সে প্রমাণ পেয়েছি। পরে বলছি। ঢোকার মুখেই বার্কিং ডিয়ার। সে ডানদিকের জঙ্গল থেকে বাঁদিকে গ্যালো। পানবাড়ির জঙ্গলের চরিত্র বেশ অন্যরকম।ঘন ঝোপ থেকে শুরু ক'রে বনস্পতি মাথা উঁচু ক'রে দাঁড়িয়ে আছে। শিমুল থেকে কত নাম না জানা ফুল, টগর থেকে কাঠবাদাম, এই দাম দেওয়া যায়! খালি মনে হচ্ছিলো - হে সম্ভাবনাময় কবিতা, প্রকৃতির ভাষা যদি আরও ভেতরে নিতে পারতাম...   পাখিদের মিহি হিমি মিক মিক চিরচির রচনা। 'জঙ্গল তোমায় বড় ভালোবাসি'। ওয়াচ টাওয়ার থেকে ঘাসজমিতে হাতি তখন নিজের মনে... আবার গাড়ি ধরলাম। বেশ খানিকটা জঙ্গল-পথে এগিয়ে একটা নদী পেরোলাম। এই গহীন গহনতায় ভাগচিহ্ন দিয়েছে এই নদী। শেষ একটি ওয়াচ টাওয়ারের সামনে নামলাম। দেখলাম সামনের একটি রাস্তা ট্যুরিস্ট চলাচলের জন্য নিষিদ্ধ করা আছে।

-ভাই এদিকে যেতে দেয় না?
-না দাদা, ওই রাস্তায় ব্ল্যাক পান্থার আর লেপার্ড আসে।
-দেখতে পাবো?
-বাচ্চাদের নিয়ে এসেছেন, না পাওয়াই ভালো।

আমাদের এগুলো চৌবাচ্চা। ফলে সে স্বপ্ন অধরাই থাক। ইচ্ছে ছিলো মূলত 'গোল্ডেন লেঙ্গুর' দ্যাখার। সে ইচ্ছেও এবার পূর্ণ হোলো না।  যাই হোক অপূর্ণ থাক কিছু, পরেরবারের আশায়। 

ফেরার রাস্তায় দেখি দুটো শিং আর মুখ উঁকি দিচ্ছে। মনে হচ্ছে কোনো এক বন-ভাস্কর ওই বাইসনের ভাস্কর্য তৈরি ক'রে রেখেছে, সে এমনই অপলক তাকিয়ে ছিলো কিছুক্ষণ। যত যাই,  এই জঙ্গল ছায়ানট ও নটীদের রঙ্গমঞ্চ মনে হয়, ভ্রম হয়, ওখানে কি কেউ আছে!

এখানে ট্যুরস্টদের পা পড়ে খুব কম। আমাদেরটা নিয়ে মাত্র দুটো গাড়ি এই বিশাল জঙ্গলে রয়েছে। তাই এত অপরসৌন্দর্য অপার হয়ে আছে। পদে পদে রহস্য বিপদমূর্তি গ্রহণ করতে পারে এখানে। হোলোও তাই। খুব সরু রাস্তার পাশে ঘন জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে ছিলো একদল হাতি। বলা হয়, পানবাড়ির হাতি খুবই আক্রমণাত্মক হয়। আমাদের গাড়ি যখন ওই রাস্তা দিয়ে পাস করছে, তখনই দুহাত দূরে জঙ্গলের প্রায় আলোহীন গভীরতা চিরে মুহূর্তে বেরিয়ে এলো দলের বড় হাতিটা। সে কি মূর্তি! গার্ডম্যান উঁচিয়ে ধরলো বন্দুক। মিঠাই আর মামমাম চুপ ক'রে গ্যাছে ভয়ে। আমরা নীরব দর্শকের মতো সে দৃশ্য অভিনীত হতে দেখছি। 
'গাড়ি চালাও' - ব'লে উঠলো গার্ডম্যান। কারণ দুদিক দিক অ্যাটাক করলে গাড়ি ঘোরানোর জায়গা নেই, এত সরু রাস্তা। পাতার ফাঁক দিয়ে সমান্তরালে দৌড়োলো হাতির দল, আমরা দ্রুততায় বেরিয়ে এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। বুঝলাম বন্দুকধারী এখানে কতটা প্রয়োজন। 'জঙ্গলকারুকার এভাবেই জাগলিং করে'। সেই কবের লেখা। পথে সেই শুকিয়ে যাওয়া নদীর নীরবতাও তীব্র শীতের বাহন হয়ে তখন ভেতরকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে।

-আঙ্কেল গান গাইবে একটা?
- পারি না।
-চেষ্টা করো পারবে।

'মিঠাই চুপ করবি, না নামিয়ে দেবো গাড়ি থেকে'- ব'লে উঠলাম রেগে। যাই হোক আমার বকায় এবার চুপ করলো। এবং কিছুটা ভয়ে ঘুমিয়ে পড়লো ঋতুর কোলে। আমরাও খ চুপচাপ হয়ে বাকি জঙ্গল নীরবে দেখতে দেখতে শুনতে শুনতে পেরিয়ে এলাম। মিঠাই-এর গার্ড আঙ্কেল নামার সময় একটা চুমু দিয়ে নামলো মিঠাইকে। ব'লে গ্যালো - 'কথার ফুলঝুরি '।

(এটি শেষ পর্ব, ভূঁইয়াপাড়া রেঞ্জ ও অন্যান্য, এক চিরস্মরণীয় অভিজ্ঞতার আকাশ আজ আপনাদের সামনে উজাড় ক'রে দিলাম, যতটুকু পারলাম, চাইবো এই গ্রুপের সবাই পড়ুন, লেখার নিচে এই ভ্রমণের প্রয়োজনীয় ডিটেইলস দেওয়া আছে।)

তখন পণ্ডিত নিখিল ব্যানার্জীর সেতার বাজছে কানে। রাগ -কিরওয়ানী। কোন স্বচ্ছতাকে তুলে আনতে চাইছে আবেগঘন কুয়াশা থেকে! ভোর সাড়ে পাঁচটায় আমি আর ঋতু, জ্যাকেট জিন্স প’রে মাথায় টুপি দিয়ে, তৈরি হয়ে নিলাম। প্রায়ান্ধকার পৃথিবীতে বাইরের ঠাণ্ডা আমাদের ভেতরে ঠাঁই নিতে প্রস্তুত। সেই অপেক্ষা শীতগ্রস্ত জঙ্গলের সামনে রাত-তীক্ষ্ণ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে, রহস্যের হনুমানটুপির আড়ালে, তার চোখ তখনো খরতর, বুক ধুকপুক। টোটো থুড়ি পিলপিল এলো। আগের দিন রাতেই আমাদের পিলপিল-সারথিকে মজা ক’রে বলেছিলাম – ‘ তোমার এই গাড়িটিকে জামা-কাপড় পরিয়ে এনো, শীতের যা দাপট!’। ও আমাদের কথা মতো ওর পিলপিলকে যারপরনাই আড়াল দিয়ে এনেছে। ওই ঘোমটা ঠেলে বাইরের দিকে তাকালে ভেতরটা এমনিই জমে যায়। এর মাঝে জানিয়ে রাখি, আমরা জঙ্গলের পাশে আরেকটি কটেজে এসে উঠেছি আগের দিন বিকেলে, নাম ‘ময়ূরী’। জঙ্গলের অপার বিস্ময় মেখে সেই কটেজ সবুজপুর হয়ে আছে। যাই হোক, আমরা এসে পৌঁছলাম মানস জঙ্গলের বাঁশবাড়ি রেঞ্জের গেটে। আমাদের হাতি সাফারির সময় ভোর ৬টা থেকে ৭টা। পঙ্কজ সবই অনলাইনে বুক ক’রে রেখেছিলো। এখানে হাতি-সাফারির সিস্টেম বেশ ভালো। কোনো হাতিতে দুজন, কোনোটায় তিনজন আসন-সংখ্যা অনুযায়ী। বসানোর পদ্ধতিটাতেও রিস্ক নেই কোনো। হাতিগুলো একই পথে দুলকিচালে চললো। সাথে তাদের সন্তানেরা। কেউ কার্ত্তিক, কেউ গণেশ। গণেশ মাঝে মধ্যে দুধ খেয়ে যাচ্ছে মায়ের। ‘গণেশের দুধপান!’, স্মৃতি উস্কে উঠলো। সব শেষে একটি হাতির পিঠে দুজন বন্দুকধারী। কুয়াশার স্তর স্পষ্ট। গাছের আড়ালে ওই যে লাল টিপখানা। যেতে যেতে ভাবছি, যেন এক নতুন জন্ম, ‘আলোর আকুলতা’-র নিশ্চুপ অপেক্ষা। ‘ওই দ্যাখো’- ঋতু মগ্নতা ভেঙে দিলো। দেখি দূরে এক সম্বর হরিণ বুনো ফুল-পাতায় মিশে আদিম পৃথিবীর প্রতিনিধি হয়ে স্থির। এগিয়ে চললো হাতি। চরাচরের রঙ, গন্ধে ভরপুর হয়ে উঠলাম আমরা।  একদল বুনো মোষ তখন প্রথম রোদের স্পর্শ নিয়ে কচি পাতা চিবোচ্ছে। ‘বাবু, এখানেই বাঘ আসে, সেদিনই কিছু দূরে, ওই যে জঙ্গল-বাড়ি দেখছেন, ওখানে দুটো বাঘ একটা হরিণ টেনে নিয়ে যাচ্ছিলো’। চারিদিক ভালো ক’রে তাকিয়ে নিলাম, থাক ওরা ওদের মতো। কখন এক-ঘন্টা কেটে গ্যাছে, এবার আমাদের নামার পালা।

কটেজে ফিরে জলখাবার খেলাম। আজ আমাদের পরবর্তী গন্তব্য মানসজঙ্গলের আরেকটি রেঞ্জ ‘ভূঁইয়াপাড়া’। এবার সপরিবারে। এটা ইস্টার্ন রেঞ্জ। ২০২৩-এর আজ দ্বিতীয় দিন। টানাট্যুরের বিভূতিভূষণ যেন বা… মদনটাক পাখি, আর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা ময়ূরদল দেখতে দেখতে পৌঁছলাম চরিত্রের দিক থেকে বিশেষ এই জঙ্গলে। বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিশাল বিস্তৃত ঘাস-জমি। দূরে পাহাড়! এরকমও হয়! সোনা-রঙ ধারণ ক’রে আছে সেই বিস্তৃতি। ঢুকতেই দেখলাম একদল বুনো-মোষ। ঘাসের মধ্যে শিং-গুলো তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। আজ পঙ্কজ আবার ইজিকেল-কে পাঠিয়েছে আমাদের সারথি ক’রে। আমাদের গাড়িতে আরেকজন গার্ডম্যান আজ, যাঁর উপস্থিতি এখানে বাধ্যতামূলক। মিঠাই নতুন মানুষকে দেখে উত্তেজিত। ‘আঙ্কেল তুমি চিপ্স খাও?’, ‘আঙ্কেল তুমি বন্দুক ধরতে দেবে?’, ‘আঙ্কেল তুমি আমাকে বকবে না তো?’ … চলছে সমানে। থেকে থেকে দুই বোন ব’লে উঠছে ‘স্ট্রবেরি স্ট্রবেরি চু চু চু/ স্ট্রবেরি স্ট্রবেরি উ লা লা/ স্ট্রবেরি স্ট্রবেরি আই হেট ইউ…’। এর মধ্যেই গাড়ি ছুটছে। আকাশ পাহাড় জঙ্গল এক অনির্বচনীয় অনুভূতি। ওয়াচটাওয়ারে এলাম। দৃষ্টি যতদূর যায়, শুধু ঘাস-জমি। এখানে আরেক বৈশিষ্ট্য,  প্রত্যেকটি ওয়াচটাওয়ারের সামনে মৃত পশুদের শিং সাজিয়ে রাখা আছে।  তার গঠন-বৈচিত্র্য হতবাক ক’রে দ্যা্‌য়। দেখলাম প্রচুর কুল-গাছ। গাড়িতে উঠলাম আবার, পৌঁছলাম এক নদীর সামনে, জল খুব কম। একটা ভাঙা ব্রিজ, আমাদের ফেরার কথা মনে করিয়ে দিলো। গাড়ি ঘোরানোর পরই এক আশ্চর্য দৃশ্য। রাস্তার পাশে ন’ড়ে উঠলো ঘাস। বেরিয়ে এলো এক হাতি-পরিবার। ভাবুন,ঘাস কতটা লম্বা হ’লে হাতির শরীর ডুবে যায়। ওরা এক দিকের ঘাস-জমি থেকে আরেক দিকে যাবে। স্থির হয়ে দেখলাম পরিবারের সদস্যদের কেমন খেয়াল রেখে পার করাচ্ছে পরিবার-প্রধান। কীভাবে ঘাসনদীতে ডুবে যেতে পারে সেই বিশালদেহ-প্রাণীরা। আবার কিছুটা এগোনো। কিছুদূর এগিয়ে আবারও হাতির দল, রাস্তা পেরোবে। দীর্ঘ আয়তনের সেই  দেহগুলো, তার উপর ক্ষুদ্র এক পাখির উড়ে যাওয়া, সেই ছায়া-রোদে… ঘোর লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই পাখি লেন্সবন্দি হোলো। ইজিকেল বললো – ‘এই যে বাঘের পটি’। আমি বললাম – ‘পটি নয়, বাঘ চাই’। যদিও সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকেই এই ফেরা। বিভূতিভূষণের মতো আমিও নমস্কার করলাম সেই পাহাড় ও জঙ্গলকে। ঘুরে দেখে নিলাম, বললাম – ‘এই বিস্ময়ে বেঁধে রেখো চিরকাল’। 

দুপুর ১টা নাগাদ ফিরে, চান , খাওয়া সেরে নিলাম। মা, বাবা আর বাচ্চাদের রেখে বেরিয়ে পড়লাম আবার। আবারও, পঙ্কজ, আমাদের এই ট্রিপের শেষ সাফারির জন্য। দুপুর ঠিক তিনটে, বাঁশবাড়ি রেঞ্জ শেষবারের মতো। প্রথমেই পরিচিত ওয়াচটাওয়ারের সামনে পৌঁছলাম। ‘পাঁচমিনিট ওয়েট করুন, গণ্ডার না আসলে বেরিয়ে যাবো’-পঙ্কজ বললো। হোলোও তাই, দেখি একটা গণ্ডার কর্দমাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে এলো ভেতরের জঙ্গল থেকে। পড়ন্ত সূর্যের আলো তার গায়ে। সেই দৃশ্য দেখে এগিয়ে গেলাম। কত পাখি! ঘরে ফেরার পথ ধরেছে। আহা! কিছুটা এগিয়ে একদল হাতি চোখে পড়লো, রাস্তার একদম পাশে। আরেকটি সাফারি গাড়ি থেকে সেই ছবি নিচ্ছে কয়েকজন। আমাদের গাড়ি হাতির দলের সামনে দিয়ে এগিয়ে যেতেই একটি ছোটো হাতি তার রাগ বাজাতে শুরু করলো। সে কি তাণ্ডব! বলিষ্ঠ প্রাণময় সে অঙ্গচালনা। ‘হাতির মাথায় ব্যাঙের ছাতা’ না দেখলেও , গাছের ডাল শুঁড় দিয়ে ভেঙে আমাদের দিকে ছুঁড়ছে। টার্গেট ঠিক হ’লে কী হোতো জানি না, আর তাতেই নিজের মাথায় ঘাস, মাটি ছড়িয়ে পড়ছে। হঠাৎ দলের বড়জন এগিয়ে এলো, চেজ করলো আমাদের গাড়ি। পঙ্কজের সাহস আছে, বললো – ‘আসতে দিন, ঠিক বেরিয়ে যাবো’। আমাদের ধুকপুকানি ততক্ষণে বেড়ে গ্যাছে। হাতি ছুটলো আমাদের গাড়ির পেছনে, আমরাও সে পথ ছেড়ে বেরিয়ে এলাম। এই কয়েকদিনে চাঁদ বড় হয়েছে, সূর্যাস্তের অন্যদিকে সে সাজুগুজু করছে। এগিয়ে গেলাম, অনেক দূরে মদনটাক পাখি ন্যাড়া গাছের মাথায় স্থির, পাতার ফাঁকে বুলবুল গা ফুলিয়ে গরম করছে শরীর … ঘাসজমির দিকে পাখিতান ও ঝরাপাতার আলাপ নিয়ে সূর্যাস্ত হচ্ছে। সে ছবি নিলাম আরেকটি ওয়াচটাওয়ারের সামনে। সেখানে কর্মরত কিছু মানুষ রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ কেমন রান্নাঘর! এবার ফিরতে হবে। হবে? হবে! ভেতরটা তোলপাড় ক’রে উঠলো। ময়ূরের ওঁয়াও ওঁয়াও ডাকে চরাচর কাঁপছে, যেন আধো-ভৌতিক এক জগৎ আমাদের বিদায় জানাচ্ছে। বিদায় জানাচ্ছে রাস্তার পাশ থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে আমাদের দিকে তাকানো বুনো মোষ… সে দৃষ্টি ভোলার নয়। বলছে – আর কত? যেন এক অপার্থিব চরাচর তার প্রাণ ও জড়ের সংলাপ নিয়ে আমাদের এই জার্নির সাক্ষী থেকে গ্যালো। প্রাণ ভ’রে শ্বাস নিলাম।  পরের দিন দুপুর ৩টে ২৫ – এ সড়াইঘাট। ফিরতে হবে কোলাহলময় কলকাতায়, সে তো আমারই শহর।  মনে পড়লো ‘আরণ্যক’-এর সেই লাইন – ‘কি অদ্ভুত রোমান্স এই মুক্ত জীবনে, প্রকৃতির সহিত ঘনিষ্ট নিবিড় পরিচয়ের সে কি আনন্দ!’…

ফোটোম্যানিয়া থেকে কিছু ছবি বন্ধুদের জন্য। 

আমরা যথাক্রমে দুদিন ক'রে দুটি কটেজে ছিলাম ১। রাইনো ২। ময়ূরী। 

থাকা, খাওয়া, গাড়ি থেকে সাফারির যাবতীয় বুকিং নিশ্চিন্তে করতে যোগাযোগ করুন, পঙ্কজের সাথে। ওর ফোন নং -  8638007201। কোন ট্রেন ধরবেন, কোথায় নামলে সুবিধা হবে, সব তথ্য ও আপনাকে দিয়ে দেবে।

প্রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

About Author
&
Photographer

লেখক : সব্যসাচী হাজরা

লেখালিখি :  শূন্য দশক

ভালোবাসা : কবিতাপাঠ, ভ্রমণ,  ছবি তোলা, গান গাওয়া , শ্রুতিনাটক

আলোকচিত্রী: সব্যসাচী হাজরা

লেখালিখি :  শূন্য দশক

ভালোবাসা : কবিতাপাঠ, ভ্রমণ,  ছবি তোলা, গান গাওয়া , শ্রুতিনাটক

Subscribe

Find Us On

Comments

YOU MIGHT ALSO LIKE

Subscribe

Get the lastest news and updates from Bismoypur


সব্যসাচী হাজরা

Subscribe

Social widget