"হে বৃক্ষের স্বরলিপি, তোমরা তবুও জন্তুতে টানা..."

বিস্ময়পুর

 

বিশেষ জঙ্গল সংখ্যা - পর্ব-১

'কোন্ গহন অরণ্যে তারে এলেম হারায়ে / কোন্ দূর জনমের কোন্ স্মৃতিবিস্মৃতি ছায়ে।।'- রবীন্দ্রনাথের গানের  লাইন ভেতরে ভেতরে অনন্ত বিস্ময়ে আরো ঘন হয়ে এলো। সেই ছায়ানটের কাছে আমাদের ইন্দ্রিয় পাতা-ঝরার শিহরনে একটু একটু ক'রে আদিম শব্দ ও শব্দহীনতায় ফিরে গ্যালো ... ধরা-অধরার রহস্যে আমরা পৌঁছে গেলাম কবিতার কাছে।

এই সংখ্যায় আমরা  শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছি কবি দেবাঞ্জলি মুখোপাধ্যায়-কে, ওঁর রচিত একটি কবিতার মধ্য দিয়ে-

অরণ্যমানবী

 

আমাকে অর্ধেক এঁকে আমার মা

হঠাৎ চলে গেলেন গভীর বনে।

সবুজ গাছে ডুবে ডুবে

তিনি খুব স্নান করলেন।

অতসী রঙের দুটি পায়ের পাতায় মাখলেন

পলাশ অশোক কৃষ্ণচূড়ার লাল গুঁড়ো।

রক্ত ফুটে বেরোলো অপার্থিব সাদা নখে।

 

তারপর তিনি ফিরে এলেন ইজেলের কাছে,

আমার বাকি অর্ধেক শেষ করে দিলেন দ্রুত টানে।

 

সাদা ক্যানভাসের পর্দা দুলিয়ে

ঢুকে এলো কালোসবুজ অরণ্যমানবী।

 

'আরও বিস্ময় দাও' - কার কাছে চাই? প্রভু! কে সে? সে প্রশ্ন অধরা... তবুও জীবন ও প্রকৃতির বাকে, যে বাঁক-বিস্ময় অনাবিষ্কৃত তার খোঁজেই কেটে যায় জন্ম-মৃত্যুর আলিঙ্গন। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন - 'অন্তবিহীন লীলা'-র কথা। যে নতুন পথ আমাদের দুর্নিবার আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায়, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে চলার অপার রহস্য ও রোমাঞ্চ। জুড়ে আছে ফুটে ওঠা ও ঝ'রে পড়া, চেতনতাড়িত দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ ও স্বাদ। ইন্দ্রিয় তখন বহির্জগতকে প্রবেশের পথ দ্যায়, অন্তর্জগত আলোকিত হয় সেই শিক্ষার অনাবিল উৎসবে। চোখ ও দৃষ্টি, কান ও শ্রুতি, নাক ও গন্ধ, ত্বক ও স্পর্শ, জিভ ও স্বাদ অনুভূতির সংযোগে নিজেকে প্রস্তুত করে, আর এই প্রস্তুতি চলতেই থাকে নতুনকে জানার আশায়। অনালোকিত এক পরিসর আলোকিত হয়, পরিত্যক্ত গলিও দ্যাখার গুণে কথা বলে, বুনোফুল দ্যায় অনিন্দ্যগ্যালারি। চলা হয়ে ওঠে পর্যটন। ভ্রমণ নিছক কাহিনী নয়, সে সাহিত্যও। আমাদের বিস্ময়পুরের উদ্দেশ্য সেই ভ্রমণসাহিত্যকে আপনাদের সামনে তুলে ধরা। প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও পরিব্রাজক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর লেখা 'কেদারনাথ - সেকাল ও একাল' - গদ্যের একটি লাইন মনে পড়ছে - 'পৃথিবী ঘোরে, বছরও ঘুরে আসে, আমিও ঘুরি।'।

বিস্ময়পুর

পরিকল্পনায় : সব্যসাচী হাজরা

সহযোগিতায় :

সমীরণ ঘোষ
প্রদীপ চক্রবর্তী
ঋতুপর্ণা বেরা হাজরা

'কোন্ গহন অরণ্যে তারে এলেম হারায়ে / কোন্ দূর জনমের কোন্ স্মৃতিবিস্মৃতি ছায়ে।।'- রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন ভেতরে ভেতরে অনন্ত বিস্ময়ে আরো ঘন হয়ে এলো। সেই ছায়ানটের কাছে আমাদের ইন্দ্রিয় পাতা-ঝরার শিহরনে একটু একটু ক'রে আদিম শব্দ ও শব্দহীনতায় ফিরে গ্যালো ... ধরা-অধরার রহস্যে আমরা পৌঁছে গেলাম কবিতার কাছে।

'আরও বিস্ময় দাও' - কার কাছে চাই? প্রভু! কে সে? সে প্রশ্ন অধরা... তবুও জীবন ও প্রকৃতির বাকে, যে বাঁক-বিস্ময় অনাবিষ্কৃত তার খোঁজেই কেটে যায় জন্ম-মৃত্যুর আলিঙ্গন। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন - 'অন্তবিহীন লীলা'-র কথা। যে নতুন পথ আমাদের দুর্নিবার আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায়, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে চলার অপার রহস্য ও রোমাঞ্চ। জুড়ে আছে ফুটে ওঠা ও ঝ'রে পড়া, চেতনতাড়িত দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ ও স্বাদ। ইন্দ্রিয় তখন বহির্জগতকে প্রবেশের পথ দ্যায়, অন্তর্জগত আলোকিত হয় সেই শিক্ষার অনাবিল উৎসবে। চোখ ও দৃষ্টি, কান ও শ্রুতি, নাক ও গন্ধ, ত্বক ও স্পর্শ, জিভ ও স্বাদ অনুভূতির সংযোগে নিজেকে প্রস্তুত করে, আর এই প্রস্তুতি চলতেই থাকে নতুনকে জানার আশায়। অনালোকিত এক পরিসর আলোকিত হয়, পরিত্যক্ত গলিও দ্যাখার গুণে কথা বলে, বুনোফুল দ্যায় অনিন্দ্যগ্যালারি। চলা হয়ে ওঠে পর্যটন। ভ্রমণ নিছক কাহিনী নয়, সে সাহিত্যও। আমাদের বিস্ময়পুরের উদ্দেশ্য সেই ভ্রমণসাহিত্যকে সামনে আনা।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও পরিব্রাজক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর লেখা 'কেদারনাথ - সেকাল ও একাল' - গদ্যের একটি লাইন মনে পড়ছে - 'পৃথিবী ঘোরে, বছরও ঘুরে আসে, আমিও ঘুরি।'।

Subscribe

Find Us On

Subscribe

Get the lastest news and updates from Bismoypur


সব্যসাচী হাজরা

Subscribe

Social widget