>

সমুদ্র

সাগর থেকে বকখালি

সমুদ্রে তো অনেকেই। আলো নামার অজুহাতগুলো নিয়ে আমি তো বারবার। তখন অধিকাংশেরই আর মুখোশ থাকে না। থাকে না মাথার ভিতরে কোনও সীমানা কিংবা বাড়ি। দুঃখ একটাই সমুদ্রে নেমে গামছা বা তোয়ালে হারিয়েছি। হয়তো আপনিও। কিন্তু কোনওবারই জলদেবতা উঠে এসে তা ফেরত দেন নি।আপনি কি কিছু ফেরত পেয়েছেন? উনি কিন্তু কুঠার ফেরিয়ে দিয়েছিলেন।

Read More

গোপালপুর-অন-সি, নির্জনাবাস

মন্তেস্কু,রুশো,ভোলতেয়ার,দিদেরো’র মত দিগগজ দার্শনিকদের দিগনির্দেশনায় নিপীড়িত মানুষ বিপ্লবের জন্য পথে নেমেছিলেন।রাজতন্ত্রের যাবতীয় অত্যাচার,অনাচার,অবিচার এবং ব্যাভিচারের বিরুদ্ধে খেপে উঠেছিল সাধারণ মানুষ।ভেঙে ফেলেছিল বাস্তিল দুর্গ স্বাধীনতা,সাম্য,মৈত্রীর আদর্শকে সামনে রেখে।‘ম্যাক্সিমিল্যান রোবসপিয়ের’-এর জ্বালাময়ী ভাষণে তেতে উঠছে ফ্রান্সের তরুণ সমাজ।রোবসপিয়ের যখন বলছেন, ‘The king must die so that the country can live.’ চিৎকার করে উঠছে তরুণ বিপ্লবীরা।এই তরুণদের মশ্যেই ছিলেন ‘লোরেঁ’ নামের এক তরুণ,অত্যধিক সক্রিয়তার জন্য যিনি অচিরেই রাজকীয় রোষাণলে পড়ে যান এবং আত্মগোপন করেন।ফ্রান্সের রাজকীয় আরক্ষা-বাহিনী তা&কে যখন হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছে তিনি তাঁর বন্ধু ইস্ট ইন্ডিয়া শিপিং কর্পোরেশনের ক্যাপ্টেন ‘এদোয়ার্দো’র সাহায্যে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া শিপিং কর্পোরেশন’-এ যোগ দেন এবং তাদেরই জাহাজে এসে পৌঁছান ‘গোপালপুর-অন-সি’তে।

Read More

মাই ডিয়ার জলবন, এসো ঢেউ শিখি

আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে রক বিচের মনকাড়া মাধবী রাত । সেবারে ছিল পূর্ণিমার রাত । দেখি জলের ছায়া ঘটি ঘটি রোশনি তুলছে আর ঢেউ এর রক্তিম উড়ে উড়ে ক্রপ করা রাতের মালকোষে । সমস্ত রাগ-রাগিণীর মোহ একসাথে আলোর গভীরে তোলপাড় । জলের রিডে হাত বোলাতেই সহস্র মন মিনিচাঁদের মোড়ে ম্যাক্সিমাম! এদিকে ‘আমি’ মিনিমাম হতে হতে কখন পৌঁছে যাই রিসোর্ট খেয়াল নেই । পরের দিন আবার নিজের মত ফিরে আসা চেন্নাইয়ে।

Read More

শী-রিসর্ট

এইসবকিছু পেরিয়ে কখন যে ঢুকে পড়েছিলাম দ্রাবিড় ম্যাঙ্গালোরে।অনার্য-প্রদেশে।আর্য ঢুকে পড়ে যেভাবে দুম করে ইতালীয় রম্যকথায়। চওড়া চওড়া পাথর বিছানো সমুদ্র-উপকূল।যেখানে তেমনটা নেই সেখানেই এক-একটি she resort. অ্যাই,গুলোবে না মোট্টে।sea-resort। কেলেকুলে পাথর সর্বত্র।ওখা হোক বা উল্লার।যেখানে নেই সেখানেই সমুদ্র-বিলাস। জুহু অথবা গণপতিপুলে কিংবা কারোয়ার । কেলেকুলো পাথরগুলো কোথায় সেখানে? সৈকত গার্ড দিচ্ছে পাহাড়।পশ্চিমঘাট সমুদ্রতীর অব্ধি এগিয়ে এসেছে ।পূর্বঘাট যেন কেমন দূরে দূরে।পাহাড় এসেছে কাছে কেবল ইয়ারাদা- সৈকতে। গোয়া বলে ভ্রম হয় ।

Read More

যতটা শেষরাতের স্বপ্ন, যতটা দেজা ভ্যু

অবশেষে, একদিন, সকল কাঁটা ফুল করে যখন আমরা রাতের বাসে উঠতে পেরেছি, তারপর সকালে, হাতে হাত ধরে সাগরের সামনে দাঁড়িয়েছি, দুজনই কেমন নির্বাক হয়ে পড়েছিলাম। মনে আছে তখন সকাল, আমরা কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতে নরম বালুর দিয়ে হাঁটছিলাম। সায়নরঙা বঙ্গোপসাগরের ক্রোড়ে কী মিষ্টি রো-দ! নীল হীরকচূর্ণঝরা! ঢাকা থেকে প্রায় বারো ঘণ্টা বাস যাত্রার ক্লান্তি আমাদের প্রতি কোষে ধরা থাকলে কী হবে। ক্লান্তি বোঝার মতো বোধবুদ্ধি আমাদের তখন লুপ্ত। আমি বললাম, “পার্ল, এই সেই সমুদ্র। দেখেছ? অনেক স্বপ্নের...” পার্লিয়া বলল, “অবশেষে মিম। বিশ্বাব হচ্ছে না এখনো। চলো একটু পা ভিজিয়ে দাঁড়াই।”

Read More

পুরী পরিক্রমা

দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রনীল আর নীলাকাশ আলাদা কি? নাকি তারা একই। শুধু ঢেউয়ের ভ্রম নাকি সফেন মায়া দুটি করে রেখেছে তাদের। নীলাচলের অদৃশ্য টিলার ওপর কোনও ময়ূর দেখিনি তবে আকাশ অংশত মেঘলা ছিল। কীভাবে একটি দিন কুসুম হয়ে রাত্রির সমুদ্রে ঝাঁপ দেয় তা দেখব বলে বিকেল পাঁচটা থেকেই বসে আছি সৈকতে। আর এদিকে নরমসরম সূর্যও লুকোচুরি খেলছে। আমরাও ছাড়ছি না। স্বর্গদ্বার থেকে পিছু নিতে নিতে পশ্চিমে লাইটহাউস পর্যন্ত চলে গেলাম আমাদের আদিম চিত্রকরের লাইভ পেইন্টিং দেখব বলে। না আজ আর রং খেলল না।

Read More

একটি অতীত-ভ্রমণ অথবা স্মৃতিকথা (দীঘা)

রোদ্দুর প্রথমবার সমুদ্র দেখছে। ও এই বিশালতার সামনে দাঁড়িয়ে কেমন করে নিজেকে প্রকাশ করে, সে নিয়ে আমার কৌতুহল উৎসাহ দুইই ছিল তুঙ্গে। ও ছিল ওর বাবার কোলে, আর আমি ক্যামেরা তাক করে ছিলাম রোদ্দুরের মুখের উপর। বালির বিচে নেমে রোদ্দুরের বাবা ওকে কোল থেকে নামিয়ে দিল, আর ও দুই হাত দিয়ে বাবার হাত আঁকড়ে ধরে ভয় আর আনন্দ মেশা বিস্ময়ের চোখে সমুদ্রের দিকে তাকাল। আমার ক্যামেরা ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যামেরার বোতামে চাপ দিল। জীবনে যত ছবি তুলেছি আজ পর্যন্ত, আনাড়ি হাতে তোলা ওই ছবিটি আমার জীবনে এখনো পর্যন্ত তোলা শ্রেষ্ঠ ছবি।

Read More

আন্দামানের অন্দরে দ্বৈত দ্বীপের সৈকত সেতু

স্পিড বোট স্পিড তোলেনে তখনও। দুলকি চালে ভেসে চলেছে সামনের দিকে। চলতে চলতে, আন্দামানের অন্দরে আগত আনন্দ ও বিগত বিস্ময়, ভাসমান ভেলায় ভাসিয়ে, কেবল উপস্থিতির দিকেই চোখ মেলে রইলাম। এরিয়াল বে জেটির পাশের সান বাধানো ঘাটে একটা বাচ্চা হাতিকে চান করাচ্ছে মাহুত। এক ছোট্ট ডিঙি নৌকায় দাঁড়িয়ে, ধীবর পল্লীর এক দেহাতি, মাছ ধরার জাল ছুঁড়ে দিলো নীল সাগরের বুকে। দূরে নাম না জানা কিছু অচিন দ্বীপের সবুজে মোড়া মাথা গুলো ক্রমশ মিলিয়ে যেতে থাকলো চোখের নিমেষে। অন্য একটা বোট গতি বাড়িয়ে আমাদের পাশ ঘেঁষে এগিয়ে গিয়ে অদৃশ্য হ'ল নিঃসীম নীলের চরাচরে। দূর দিগন্তে তাকিয়ে দেখি আবছায়া স্যাডেল পিকের চূড়া ছুঁয়ে, ঘন কালো মেঘের ঘনঘটা ঘনিয়ে আসছে আমাদেরই দিকে।

Read More

বিস্ময়পুর

পরিকল্পনায় : সব্যসাচী হাজরা

সহযোগিতায় :

সমীরণ ঘোষ
প্রদীপ চক্রবর্তী
ঋতুপর্ণা বেরা হাজরা

'কোন্ গহন অরণ্যে তারে এলেম হারায়ে / কোন্ দূর জনমের কোন্ স্মৃতিবিস্মৃতি ছায়ে।।'- রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন ভেতরে ভেতরে অনন্ত বিস্ময়ে আরো ঘন হয়ে এলো। সেই ছায়ানটের কাছে আমাদের ইন্দ্রিয় পাতা-ঝরার শিহরনে একটু একটু ক'রে আদিম শব্দ ও শব্দহীনতায় ফিরে গ্যালো ... ধরা-অধরার রহস্যে আমরা পৌঁছে গেলাম কবিতার কাছে।

'আরও বিস্ময় দাও' - কার কাছে চাই? প্রভু! কে সে? সে প্রশ্ন অধরা... তবুও জীবন ও প্রকৃতির বাকে, যে বাঁক-বিস্ময় অনাবিষ্কৃত তার খোঁজেই কেটে যায় জন্ম-মৃত্যুর আলিঙ্গন। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন - 'অন্তবিহীন লীলা'-র কথা। যে নতুন পথ আমাদের দুর্নিবার আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায়, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে চলার অপার রহস্য ও রোমাঞ্চ। জুড়ে আছে ফুটে ওঠা ও ঝ'রে পড়া, চেতনতাড়িত দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ ও স্বাদ। ইন্দ্রিয় তখন বহির্জগতকে প্রবেশের পথ দ্যায়, অন্তর্জগত আলোকিত হয় সেই শিক্ষার অনাবিল উৎসবে। চোখ ও দৃষ্টি, কান ও শ্রুতি, নাক ও গন্ধ, ত্বক ও স্পর্শ, জিভ ও স্বাদ অনুভূতির সংযোগে নিজেকে প্রস্তুত করে, আর এই প্রস্তুতি চলতেই থাকে নতুনকে জানার আশায়। অনালোকিত এক পরিসর আলোকিত হয়, পরিত্যক্ত গলিও দ্যাখার গুণে কথা বলে, বুনোফুল দ্যায় অনিন্দ্যগ্যালারি। চলা হয়ে ওঠে পর্যটন। ভ্রমণ নিছক কাহিনী নয়, সে সাহিত্যও। আমাদের বিস্ময়পুরের উদ্দেশ্য সেই ভ্রমণসাহিত্যকে সামনে আনা।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও পরিব্রাজক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর লেখা 'কেদারনাথ - সেকাল ও একাল' - গদ্যের একটি লাইন মনে পড়ছে - 'পৃথিবী ঘোরে, বছরও ঘুরে আসে, আমিও ঘুরি।'।

Subscribe

Find Us On

Subscribe

Get the lastest news and updates from Bismoypur


সব্যসাচী হাজরা

Subscribe

Social widget