>

পাহাড়

পাহাড়কণিকা কণাহিমালয় (ভূতলস্বর্গের কানাচ আর মরুপাহাড়ের আলসে থেকে)

স্বর্গ আর কাকে বলে! আর এরই মাঝখানে আমরা, আমাদের মত আরও কিছু মানুষ, বিস্ময় বিহ্বলতায় আবেশিত। কোত্থেকে আসছে ঠিকানা নেই, কোথায় ফিরে যাবে নেই সেই হদিশ। সব ঠিকানা যেন এসে মিশেছে এই পরিবেশে এই পরিমণ্ডলে। উচ্ছল হয়ে পড়ায় কোনও বাধা নেই। আবার শান্ত হয়ে মেডিটেশনে বসে পড়ারও সমস্ত রসদ মজুত। জুগনু আজ একটু বেশিই আত্মভোলা হয়ে পড়েছে। ক্যামেরার সামনে নানা ভঙ্গিমায় পোজ দিয়ে যাচ্ছে। নাচছে, হাসছে, দুবাহু প্রসারিত করে গান গেয়ে উঠছে। প্রনবদা, চঞ্চল, কিছুটা অস্থির, সমস্ত জায়গাটা খুব কাছ থেকে ঢুঁরে ফেলছে, আর ক্যামেরাবন্দী করছে সসীম কে, বুঝিবা অসীমকেও সে নিয়ে আসবে কোনও এক ফ্রেমে। আমি আর ধীমান যতটা পারলাম জায়গাটাকে চষে ফেললাম। আর পরস্পরকে ডেকে ডেকে দেখালাম, এটা দেখ, ওটা দেখ। বহু বহুদিন পর অনেকক্ষণ শিশু হয়ে রইলাম। বিস্ময়, মুগ্ধতা নিয়ে শিশু হয়েই থাকতে ভালো লাগছিল যেন।

Read More

ত্রিশূলধারি পার করেগা - পর্ব ১

হোটেলে ঢুকেই যে যার মত ফ্রেস হয়ে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম, গঙ্গা আরতি দেখবো, মার্কেট টা একটু ঘুরবো এই প্ল্যান নিয়ে। হরিদ্বারে গঙ্গা আরতি ভীষণ ভিড় সে অকল্পনীয়, আমি বেনারসে ও গঙ্গা আরতি দেখেছি যেটা অনেক ক্ষন ধরে হয় তবে এত ভিড় দেখিনি। যাইহোক সেই ভিড় ঠেলে আরতি দেখে বেরিয়ে পড়লাম মার্কেট ঘুরতে, আর হরিদ্বার এসে যদি লস্যি আর রাবড়ি না খাই সে তো জীবনের এক চরম না পাওয়া। এইসব টুকটাক খাওয়া দাওয়া, যার যা কেনাকাটি সেরে আমরা ৯ টা নাগাদ একটি বাঙালি হোটেলে খেতে ঢুকলাম, ভেজ থালি, ঘি, বেগুন ভাজা, ডাল, আলু পোস্ত আর চাটনি, আহা সে অমৃত। তারপর ফেরার পথে আর একটু ঘাটে বসে গঙ্গার ঠান্ডা জলে পা ভিজিয়ে আমরা হোটেলে ফিরলাম। হরিদ্বারের গঙ্গার জলে যে এত আরাম তা আপনি সমতলে কিছুতেই পাবেন না, যেমন স্বচ্ছ তেমন তার স্নিগ্ধতা। সব সেরে হোটেলে ফিরে এবার আমাদের আড্ডা দেওয়ার পালা কারণ আগামীকাল আমাদের হরিদ্বারেই থাকা এবং বহু বছর পর কলেজের বন্ধুরা সবাই একসাথে। মোটামুটি বেশ কিছুক্ষন মানে ঘন্টা দু তিনেক জমাটিয়া আড্ডা মেরে এবং আমাদের পুরো ট্রেকের প্ল্যানটা আলোচনা করে যে যার ঘরে চলে গেলাম রাত্রি বিরতি নিয়ে।

Read More

ভূতলস্বর্গের কানাচ আর মরুপাহাড়ের আলসে থেকে

আবার সন্ধ্যা নিচু হয়ে এলো ‘কৈলাশ ভিউ হোটেল’-এর এল-আকৃতির ব্যালকনিতে। ক্যামেরা প্রস্তুত। প্রস্তুত সামনের পাহাড়। সূর্য, আড়ালে। সেও প্রস্তুত নিশ্চয়ই। অস্তাচলে যাবেন। আচ্ছা, মেঘমালাও কি প্রস্তুত হয়েই আছেন, আমাদের অপ্রস্তুত করতে? সকালে দেখা নীলাকাশ মাঝেমাঝেই ছিন্ন কেন? ‘কিন্নর কৈলাশ’-এর গলা জড়িয়ে আছে ওকি সাপ না মেঘ? আর ‘শিব-লিঙ’-এর লিঙ্গটির দুধ ধোওয়া মাখন মাখন রূপটিও বা কেন ধূসর? ‘জোরকানদেন’ এর মধ্যে যেন কিছুটা স্পষ্ট, ব্যক্ত। গত সন্ধ্যার রিপ্লে হবে না তো? অনেকটা তাই ঘটলো।

Read More

ভূতলস্বর্গের কানাচ আর মরুপাহাড়ের আলসে থেকে

‘কুফরি’ পেরিয়ে আসতেই শুরু হল একপাশে সুবজ মাখানো পাহাড় আরেকদিকে খাদ, আর দূরে দূরে গিরিশৃঙ্গ। দাঁড়িয়েও পড়া হল দু-একবার। ফোটো, ফোটো। নেশা। নিসর্গও খোলামেলা, মিশুকে। নাও, নাও যত পার নাও। কোনও নিষেধের মানা নেই। ‘কত নেবে নাও, না পাবে শেষ’ ভাবখানার মধ্যে অবশ্য কোনও চ্যালেঞ্জ নেই, আছে প্রশ্রয়। যেন বলছে— আরে বাপুরে তোমাদের জন্যই তো এত সাজ, এত ভূষণ আবার খোলাখুলিও। তোমাদের জন্যই এত সূর্য আজ। আবার তোমাদের জন্যই হালকা মেঘের আড়াল। সামনে পাশে চোখ সারানো সবুজ আর নীচে খাদে অন্ধকার, দূরে শৃঙ্গে শৃঙ্গে গলতে থাকা বরফের সাদা আর কালো। তোমাদের জন্যই এত আয়োজন। নগর সভ্যতা থেকে এসেছো, আলোর ঝলমলানিতে চোখ ধাঁধিয়ে, এবারে চোখের আরাম নাও নরম, প্রখর অথচ ধাঁধানো নয়, এমন আলোতে। দূষণ থেকে এসেছো। বাতাসে কার্বন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডের দূষণ। এবারে বুক ভরে অম্লজান টেনে নাও। গন্ধের দূষণ থেকে এসেছো। বর্জ্যের ঝাঁঝালো গ্যাস আর কৃত্রিমতার চাপান। এবারে প্রাণ ভরে সুবাস নাও। তোমাদের জন্যই এত গাছ আর ফুল। নাই বা জানলে নাম। রং দেখেছো! শব্দের দূষণ থেকে এসেছো। ডেসিবেল ভাঙা দূষণ। এবারে নৈশব্দ পান করো। এক কাজ করো, জুগনু কে বলো গাড়ি থামাতে। স্টার্ট বন্ধ করতে। তারপর শান্ত হয়ে যাও। দেখবে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ লুকোতে পারছ না বলে একটা অতি কম কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পাচ্ছো। হতে পারে চারপাশের দেওদারের পাতার শব্দ এসে মিশে থাকতে পারে তার সঙ্গে। গেয়ে উঠতে পারো, ‘কোলাহল তো বারণ হলো…’।

Read More

অবিশ্বাস্য ওই সৃষ্টি এখনও সম্ভ্রম জাগায়

রূপ দেখে যেমন মন বোঝা যায়না তেমনি বাইরে থেকে দেখলে বোঝা যাবে না কেমন করে একটা পুরো ইতিহাসকে আগলে রেখে দিয়েছে এই ঘরগুলো। ইতিহাস শুধু নয় ভূগোল, বিজ্ঞান , সংস্কৃতির এক আধার যে আধারে কেটে যায় আঁধার, টর্চের আলোয়। পর্যটকদের হাতের টর্চ তখন দেওয়ালে খেলা করছে। আলোকরশ্মির নৃত্য ভঙ্গিমায় দেওয়ালে ফুটে উঠছে একের পর এক মুহুর্ত, কিসের ?? হিমালয়ের অজন্তা তখন পেঁয়াজের খোসার মত একে একে উন্মোচিত করছে নিজেকে। 996 A D তে তৈরী হওয়া মাটির তৈরী এই monestery তে আছে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বছরের পর বছর ধরে। আছে ভূমিকম্পে অটল থাকার শক্তি, আছে প্রকৃতিগতভাবে চরম ভাবাপন্ন জায়গায় মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি। কোথায়??

Read More

আমাদের পাখিজার্নি লাটপাঞ্চার

বৃষ্টির তুলোয় মোছা অনন্তের মুখ। গাঁওদেবতার দেশ। বিকেলের কাঁসায় বাজা পাহাড়। আমাদের চালকও যথারীতি। আস্ত সুপুরিভরতি চোয়াল। আইয়ে। হুড়মুড়ে আমাদের। গাইড বলল আহিস্তা। লিউকোপ্লাস্ট। গাইডের শিসের সোহাগ যাচ্ছে শূন্যের যোনিতে। আর যোনির আকুল পাখি ঠেলে। পাখি ফেরে। রঙের পরব। কোন মগডালে। চূড়ায়। আভাসের অন্তরালে। এই আছে এই ফুড়ুৎ। রঙের পশম ঝরে। ঠিনঠিনে হাওয়ার কাঁকন। প্রকৃতিবাজ দু-পাঁচ মেগা কোম্পানির চোংপ্রবল মেগাক্যামেরার মস্ত হাওড়। তবু কাচের অধরা। সন্ধে মজছে। সব্যর ততনিষ্ঠ লেন্স ততই মজে। আর তারই পকড় আমাদের ফেরার অর্জনে গৌড়মল্লার গেঁথে দিল।

Read More

সিকিমে শেখা

কয়েকশো বছর আগের কথা। লেপচাদুনিয়ার প্রবীণরা খুব চিন্তিত। কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপারের এক বসতি, মায়েল। সেখানে বসবাস করে প্রাচীণতম লেপচারা। তারা তাদের উত্তরসূরীদের কাছে নেমে আসতো। খোঁজ খবর নিত। রিয়া রবিঠাকুরকে বলল, দাদু আপ জ্যায়সা দিখনেওয়ালা ভি উনমে হ্যায়। রবিঠাকুর হাসেন। মৈত্রেয়ীকে বলেন, এই দেখো, আমি তো কবে থেকেই বলছি যে আমার নাম রবি ঠাকুর নয়, রবি লেপচা, তা’ তোমরা মানছ কই? মৈত্রেয়ী রিয়া আর ইয়াংচেনের হাতে চায়ের কাপ তুলে দিতে দিতে বলে, বেশ তো এবার নাহয় মানলাম, উপাধিতে কি যায় আসে, রবি নামটা তো আর পাল্টাবে না! বলছ? বলেই একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বললেন, আমার ড্রিংকটা দাও, সূর্য ডোবার পরে জানোই তো চা চলেনা আমার। মৈত্রেয়ী চাপা হাসি হেসে উঠে গেল ফিল্টার্ড নিমপাতার রস দিয়ে বানানো ড্রিংক তৈরি করতে। ডিক্যান্টারে ঢালা সেই সবুজ পানীয় দেখে ইয়াংচেন বলে উঠল, ইয়ে হরা রঙ’কা দারু পিকে মজা আতা হ্যায় দাদু? আপ ছাং পিনা শুরু কর দো, পুরা তন্দরুস্ত হো যাওগে! রবি আড়চোখে মৈত্রেয়ীর দিকে তাকিয়ে বললেন, দেখলে তো, এখনো একটা পাণিপীড়নের চান্স আছে, কিন্তু ওয়ে আউটটা পাচ্ছিলাম না! এবার পেলাম।ছাং।আহা,ঝংকারিছে! রিয়া কি বুঝল কে জানে, বলল, দাদু বহত মজাকিয়া হ্যায়। রবি বললেন, উও তো হ্যায়, লেকিন কাহানি রুকি কিউঁ?

Read More

জল শহরের ঠিকানা ছাড়িয়ে , লাটাগুড়ি - কার্শিয়াং - বাগোড়া - চিমনি গ্রাম ভ্রমণ ...

আদিগন্ত বিস্তৃত আকাশ আর ভ্যালি ও পাহাড়ি পাকদন্ডী বেয়ে , নানারকম গাড়ি উঠে আসতে দেখা যাচ্ছে | নদী গুলো ছোট ছোট গিঁটে দু বিনুনি ঝুলিয়ে , তিড়িং তিড়িং করে যেন আরও আরও দূরে সরে সরে যাচ্ছে | আকাশ নামিয়েছে মেখলা | এক শুভ্র নীল , সুদূরপ্রসারিত নীলাঞ্জন যেন ডাকছে ইশারালতায় | পাশে কনভেন্ট স্কুল | মাঝে মাঝে উদাসী ঘন্টা 'র শব্দ | আমাদের প্রতিটি ঘরের জানলা দিয়ে দেখা যায় , আকাশের বেহিসেবি বৈভব | পাখিদের ডানায় রোদ নেমে আসছে | বিজন এক নৈসর্গিক গন্ধ ঝরা মেঘের রোদ মেখে কুচি বাতাসে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে ছোট বড়ো বহুস্তরীয় টিলার নকশায় | আমরা দুপুরে বেরিয়ে পড়লাম স্থানীয় ভিউ পয়েন্টগুলো দেখার নেশায় | গেলাম গাড়ির স্ট্যান্ডে | এবং দুটো টাটা সুমো নেওয়া হলো | প্রথমে গেলাম গিদ্দা পাহাড় ভিউ পয়েন্টে | দুপুরের আলোয় পাহাড়ের ঢেউ বিন্যস্ত সবুজের দিশা নিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছে চা বাগান গুলোকে | রোদ ধোয়া বাতাসের শরীরময় সবুজের বিন্দু বিন্দু ঘাম |

Read More

স্পিতি জার্নি (প্রথম ভাগ)

যেন চাঁদে ঘুরে বেড়াচ্ছি। চারিদিকে এক অপার নিস্তব্ধতা। এক মহাশূন্যতা আমাকে গ্রাস করল হঠাৎ। এই শান্ত সুবিশাল নীলাকাশ, তার নিচে এই মহাবিস্তৃত পর্বতমালা, তারও নিচে আমি, সবটা যেন কোন এক আলোমাখা এক নাভিকেন্দ্রে জড়িয়ে আছে। সুদূর অতীতে এক মহাসমুদ্র, তার থেকেই হিমালয়, আমি সেই সমুদ্রেও মাছ হয়ে ছিলাম কি? কিংবা তারও আগে? জড়বস্তু হয়ে, চাঁদের আলো হয়ে, বরফ হয়ে ঝরেছিলাম কি এখানেই এক অচেনা পাথরের গায়ে? এক অদ্ভুত আচ্ছন্নতা আমাকে এমন ভাবেই গ্রাস করল, এরপর থেকে বাকিপথ ভ্রমণকালে আমি খুব বেশি কথা আর বলতে পারিনি। কেমন বোবাভাব এসে ঘিরে ধরে রেখেছিল আমাকে। তার সূত্রপাত হয় এভাবেই। এখানেই।

Read More

স্পিতি জার্নি (দ্বিতীয় ভাগ)

কীভাবে যেন পাহাড় আমার রক্তে জড়িয়ে যাচ্ছে। জড়িয়ে যাচ্ছে প্রণবদা। হিমালয় কীভাবে যেন আমার শিরায় শিরায় খেলা করছে। অমোঘ এক ধ্যান হয়ে উঠছে। কীভাবে যেন শিমলা থেকেই আমি আবার ফিরে যেতে চেয়েছিলাম ডানকারের সেই হোমস্টেতে। ছোট্ট এক পাহাড়ি পাখি হয়ে। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখতে চেয়েছিলাম নাকোতে তাশিজি এখন কী করছেন। কী আঁকছে এখন নভ নেগিজির মেয়ে ছোট্ট ডেজুম? আনজানজি কি খেলেন কিছু কাজ শেষে? CCKM এ সূর্যাস্তের রঙ এখন কেমন, সেসব আবার দেখতে ইচ্ছা করছে। আবার আবার বহুবার। আমাকে ক্রমশ পেয়ে বসেছে হিমালয়। এক স্বয়ংসম্পূর্ণ যোগমার্গ।

Read More

বড়ন্তি: এক গলানিচু সৌন্দর্যের স্বর

লেকের জলে সন্ধ্যা নামছে। ঘনীভূত হচ্ছে অদ্ভুত এক মায়া। আশেপাশে আরও কিছু সৌন্দর্যপিপাসু টিম আকণ্ঠ পান করছে সেই মায়াভরা ‘স্টানিং বিউটি’। পাহাড়ি নিসর্গকে দু’চোখে রেখে দিকশূন্যপুরের দিকে চলে যায় মন। শহর থেকে দূরে আসার একটি আক্ষরিক তাৎপর্য-অর্থ যেন মূর্ত হয়ে ওঠে এই প্রকৃতিযাপনে।

Read More

বিস্ময়পুর

পরিকল্পনায় : সব্যসাচী হাজরা

সহযোগিতায় :

সমীরণ ঘোষ
প্রদীপ চক্রবর্তী
ঋতুপর্ণা বেরা হাজরা

'কোন্ গহন অরণ্যে তারে এলেম হারায়ে / কোন্ দূর জনমের কোন্ স্মৃতিবিস্মৃতি ছায়ে।।'- রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন ভেতরে ভেতরে অনন্ত বিস্ময়ে আরো ঘন হয়ে এলো। সেই ছায়ানটের কাছে আমাদের ইন্দ্রিয় পাতা-ঝরার শিহরনে একটু একটু ক'রে আদিম শব্দ ও শব্দহীনতায় ফিরে গ্যালো ... ধরা-অধরার রহস্যে আমরা পৌঁছে গেলাম কবিতার কাছে।

'আরও বিস্ময় দাও' - কার কাছে চাই? প্রভু! কে সে? সে প্রশ্ন অধরা... তবুও জীবন ও প্রকৃতির বাকে, যে বাঁক-বিস্ময় অনাবিষ্কৃত তার খোঁজেই কেটে যায় জন্ম-মৃত্যুর আলিঙ্গন। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন - 'অন্তবিহীন লীলা'-র কথা। যে নতুন পথ আমাদের দুর্নিবার আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায়, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে চলার অপার রহস্য ও রোমাঞ্চ। জুড়ে আছে ফুটে ওঠা ও ঝ'রে পড়া, চেতনতাড়িত দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ ও স্বাদ। ইন্দ্রিয় তখন বহির্জগতকে প্রবেশের পথ দ্যায়, অন্তর্জগত আলোকিত হয় সেই শিক্ষার অনাবিল উৎসবে। চোখ ও দৃষ্টি, কান ও শ্রুতি, নাক ও গন্ধ, ত্বক ও স্পর্শ, জিভ ও স্বাদ অনুভূতির সংযোগে নিজেকে প্রস্তুত করে, আর এই প্রস্তুতি চলতেই থাকে নতুনকে জানার আশায়। অনালোকিত এক পরিসর আলোকিত হয়, পরিত্যক্ত গলিও দ্যাখার গুণে কথা বলে, বুনোফুল দ্যায় অনিন্দ্যগ্যালারি। চলা হয়ে ওঠে পর্যটন। ভ্রমণ নিছক কাহিনী নয়, সে সাহিত্যও। আমাদের বিস্ময়পুরের উদ্দেশ্য সেই ভ্রমণসাহিত্যকে সামনে আনা।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও পরিব্রাজক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর লেখা 'কেদারনাথ - সেকাল ও একাল' - গদ্যের একটি লাইন মনে পড়ছে - 'পৃথিবী ঘোরে, বছরও ঘুরে আসে, আমিও ঘুরি।'।

Subscribe

Find Us On

Subscribe

Get the lastest news and updates from Bismoypur


সব্যসাচী হাজরা

Subscribe

Social widget