>

অন্যান্য

যেন কার পায়ের ছাপ

ছোটবেলার পুজোর দিনগুলো ছিল সোনালী। তখন পুজো মানেই মায়ের হাত ধরে বিভিন্ন প্যান্ডেলে। সাথে বাবা। পিসি। তখন থিমের পুজো ছিল না। দেবীরও আগে মা ঠাকুর ছিলেন। উৎসবের সার্বিক চিৎকারের বদলে তখনও কিছুটা ছিল প্রার্থনার গাম্ভীর্য। আর ঠাকুর দেখা মানেই ছিল এগরোল। বহরমপুর পুজোয় দুভাগ হয়ে যেত। এদিক আর ওদিক। এদিক ছিল গোরাবাজার। ওদিক ছিল খাগড়া। অভ্যুদ্দয় সঙ্ঘ, অজানা সঙ্ঘ, স্পোর্টিং ক্লাব, রাণীপুকুর, রাখী সঙ্ঘ, বাগানপাড়ার পুজো, এগুলো ছিল বহরমপুরের এদিককার, মানে গোরাবাজার ও বাবুপাড়া সংলগ্ন এলাকার বিখ্যাত কিছু পুজো। ছোটবেলায় দেখতাম লালদিঘীর ওপরেই পুজো হত। পাঁচদিন আগে শুরু হত “লাইটিং”। সে এক এলাহী আয়োজন। স্পোর্টিং ক্লাবের আলোকসজ্জা প্রথম হত প্রতিবার। আবার ওদিকে, মানে খাগড়া এলাকায় ছিল মোল্লাগেড়ের পুজো, স্বর্গধাম, ভৈরবতলার পুজো, কাশীমবাজার রাজবাড়ির পুজো, ইত্যাদি।

Read More

পুজো আর পূজা

আমার কথা শুনে গুরুদেব চন্দ্রবিন্দু ভট্টাচার্য্য অত্যান্ত ক্ষেপে গিয়ে আমাকে বললেন, ওরে মুখপোড়া 'পূজা' মানে পূজিত এর পূ+জা হলো শুদ্ধ বানান। তবে মনে রাখবি পূজা শব্দের প্রতি অনেক যত্ন-আত্তি করতে হয়। আমি আমার গুরুদেবের এই যত্ন-আত্তির মর্মবাণী কখনও বুঝতে পারিনি। এটা হয়তো আমার সংকিণতা কিংবা অজ্ঞাত বললেও ভুল হবে না।

Read More

ঢাকের কাঠিতে চেন্নাই -একফালি বাঙালিআনা

চেন্নাইয়ের বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন তার প্রাণবন্ত উৎসবের জন্য বিখ্যাত, যার মধ্যে সঙ্গীত, নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী লোককাহিনী সমন্বিত থিয়েটার পরিবেশনা রয়েছে। প্রতিমা এবং শিল্পীদের কলকাতা থেকে আনা হয়, প্রতিমাটির সুনির্দিষ্ট কারুকার্যের জন্য এক মাস সময় লাগে, এমনকি পুরোহিতরাও কলকাতা থেকে আসেন। অ্যাসোসিয়েশনটি পরিবেশ বান্ধব অনুশীলনগুলিও গ্রহণ করেছে, জলের বোতলের ব্যবহার বন্ধ করে এবং পরিবেশ বান্ধব খাদ্য পরিষেবা আইটেম বেছে নিয়েছে। তারা ডাইনিং হলে বিনামূল্যে নিরামিষ লাঞ্চ প্রদান করে এবং নামমাত্র মূল্যে খাবারের পার্সেল অফার করে। সন্ধ্যা ৭টার পর, দর্শকরা বাড়ির শেফদের তৈরি সুস্বাদু বাংলা খাবার এবং মিষ্টির স্বাদ নিতে পারেন। প্যান্ডেলে প্রতিদিন গড়ে 5,000 দর্শক আসেন। গিরি রোড ভিত্তিক সিন্ডিকেট, 1929 সালে প্রতিষ্ঠিত, বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গীত, নৃত্য এবং নাটকের সাথে দুর্দান্ত উদযাপন করে। উত্সবগুলি বোধনের সাথে শুরু হয়, যেখানে প্রতিমা উন্মোচন করা হয়, তারপরে পুষ্পাঞ্জলি আচার এবং সকালে ভোগ উপভোগ করা হয়। দর্শনার্থীরা খাবারের স্টলে লুচি, মিষ্টি, পাফ, কাটলেট, রোল এবং মিষ্টি দোই সহ বিভিন্ন ধরণের বাঙালি খাবারে লিপ্ত হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকেন।

Read More

ইতিহাস ঐতিহ্য ও পরম্পরার পাশে আধুনিকতা কোচবিহারের শারদোৎসব

শ্রী শ্রী মদনমোহন ঠাকুর বাড়িতে মা ভবানী মন্দিরের নিত্য পুজোর পাশাপাশি কাঠামিয়া মন্দিরে সপরিবারে দেবীর পুজো হয়। এক কাঠামোয় লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক গণেশসহ দেবীদুর্গা থাকেন বলে এ মন্দিরের নাম কাঠামিয়া। মূর্তিকে বলা হয় কাঠামিয়া দুর্গা। মা ভবানী মন্দিরের কষ্টি পাথরের বিগ্রহ শ্রী শ্রী দেবী বাড়ির মৃন্ময়ী দেবীমূর্তির অনুরূপ। এছাড়াও এ মন্দিরে কষ্টিপাথরের আরেকটি ছোট দুর্গা মূর্তি দেখা যায়। এই পুজো দুটো ছাড়া রাজ আমলে কিছু বাড়ির পুজো ছিল। গ্রামাঞ্চলে বেশকিছু ধনীবাড়ির পুজো ছিল। তাদের ধারাবাহিকতা কতটা ছিল, জানা যায় না, কারণ ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ প্রায় ছিল না বললেই চলে। তবে বিশেষ ইতিহাস বহন করছে দিনহাটা গোবরাছড়ায় মুস্তাফীদের পুজো, লাউচাবড়া বামনহাটে লাহিড়ীদের পুজো, খাগড়াবাড়ির পঞ্চগ্রামী ব্রাহ্মণ পরিবারগুলোর পুজো। কোচবিহার শহরে রাজ আমলের যে ১২টি পুজোর সন্ধান পাওয়া যায়

Read More

দেবীর মেলা

এখানে দেবীর পূজায় পাঁঠা বলী হত। রাতের দিকে বলী হতো তাই সামিউল পাঁঠা বলী দেখতে পেতোনা। কিন্তু বন্ধুদের বাড়িতে প্রায় প্রতি বছরই পাঁঠার মাংস খেতে যেত সামিউল। ৩ কি.মি. দূরে মিল্কীতে মিশ্র বাড়ির পূজা। ওখানে মোষ বলী হত। কিন্তু সে মাংস কেউ খেত না। বলী দেওয়া মোষ নদীর ধারে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হত।

Read More

জলপাইগুড়ি শহরের পুজো পরিক্রমা

সুবর্ণপুরে শুরু হওয়া পুজোই চলছে জলপাইগুড়ির রাজবাড়িতে।রাজপরিবারের পুরোহিত শিবু ঘোষাল এই প্রসঙ্গে জানান,আগে রাজবাড়ির পুজোতে নরবলি হত। সেই রীতি প্রতীকরূপে আজও চলছে। চালের গুঁড়ো দিয়ে মানুষের পুতুল তৈরি ধানের তুষ দিয়ে সেই পুতুলের শিরচ্ছেদ করা হয়। বর্তমানে পায়রা ও ছাগ বলি হয়। যেহেতু কালিকাপুরাণের মতে পুজো হয় তাই একই সঙ্গে দেবী কালীরও পুজ হয়। রাজবাড়িতে একটি স্থায়ী নিরেট সোনার দুর্গা প্রতিমা রয়েছে। তাতে নিত্য পুজো হয়। কিন্তু পুজোর সময় তৈরি হয় মাটির প্রতিমা। সে প্রতিমা তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা। দেবীর বাহন এখানে সিংহ নয় বাঘ। চার সন্তান ছাড়াও দুর্গার সাথে পুজিতা হন গঙ্গা, বিষ্ণু , মহেশ্বর , মহামায়া ও জয়া বিজয়া । দেবীর মহাস্নানের জল আনা হয় হরিদ্বার, মথুরা, বৃন্দাবন থেকে। দেবীর গলায় থাকে নবরত্নের হার ও মাথায় সোনার মুকুট ।রূপোর অস্ত্রে সাজানো হয় দেবীকে। রাজবাড়ির পুজোর ভোগ বিখ্যাত। শাক্তমতে পুজো বলে রোজই আমিষ ভোগ হয়। নানারকম মাছ ভোগের তালিকায় থাকে। দশমীর দিন পুঁটি মাছ, ইলিশ মাছ, চিতল মাছ, পান্তা ভাত, কচু শাক থাকে দেবীর ভোগে। সকল দর্শনার্থীদের পুজোর প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

Read More

ঢ্যাং বাড়ির দুর্গাপুজো সার্ধশতবর্ষে

হাওড়া স্টেশন থেকে সালকিয়া চৌরাস্তা ক্রসিং পেরিয়ে বাবুডাঙ্গার মোড়ে এসে যে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ডানদিকে চলে গেছে সেটা যে বাড়ির পূর্বপুরুষের নামে একদা নামকরণ করা হয়েছিল সেই ঢ্যাং বাড়িতে জন্মাষ্টমী থেকেই পুজোর সূচনাকাল। জন্মাষ্টমীর সকালে স্নান করে এই বাড়ির ছেলেরা শ্রীরাম ঢ্যাং ঘাট( যেটা ফুলতলা ঘাট নামে পরিচিত) থেকে মাটি তুলে এনে পুজো করার পর মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয় পুরানো কাঠামোতেই( বিসর্জনের পর কাঠামো তুলে এনে রাখা হয় দুর্গাদালানে।) এবছর যদিও নতুন কাঠামো বাঁধা হয়েছে এবং তাতেই মূর্তি গড়া হচ্ছে। ঢ্যাং বাড়ির ঠাকুর দালানেই মূর্তি গড়ার কাজ করা হয়। ডাকের সাজের একচালা প্রতিমা। সেই জন্মাষ্টমী থেকেই বাড়িতে নিরামিষ পালন করা হয় কালিপুজো পর্যন্ত। তারপর তো একে একে পুজোর আনুসঙ্গিক কাজ করে থাকে বাড়ির মেয়ে বৌ-রা।

Read More

পেট্রোম্যাক্স সরণি যেখানে পৌঁছে দেবে

রাজা বীর বিক্রম কিশোর লোক পাঠিয়ে কুমিল্লায় চারদিকে খোঁজ করতে লাগলেন যে কাকে এই দুর্গা প্রতিমা পূজার ভার অর্পণ করা যায়। রাজার লোক আসে চক্রবর্তী পরিবারের বর্তমান বংশধর নিতাই চক্রবর্তীর প্রপিতামহ স্বর্গীয় বৈদ্যনাথ চক্রবর্তীর কাছে। তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান তান্ত্রিক ব্রাহ্মণ। পরিধানে লাল বস্ত্র থাকতো সবসময়। রাজার প্রস্তাবে বলা হয় পুজো করার জন্য মাসিক পাঁচ টাকা ভাতা ও প্রতি অমাবস্যায় একটি করে পাঁঠা বরাদ্দ করা হবে, তিনি যেন রাজার প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। ব্রাহ্মণ বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী রাজি হলেন। একটা অস্থায়ী ছাউনি গড়ে পুজো শুরু হল। দুর্গা প্রতিমা তখন থেকে দেবী কাত্যায়নী রূপে পূজিত হতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে মন্দিরের পাকা দালান নাট মন্দির তৈরি করে দেন ঁনরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত। যিনি ওখানে কুমিল্লা ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন নামে একটি ব্যাঙ্ক ও আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ।

Read More

দুই ঋতুর দেশ দিল্লির দুর্গাপুজা

আমি আর আমার পুত্র বেশ কয়েক বছর ধরে রাবণ পোড়ানো দেখতে যাই । আমার স্ত্রী বাড়িতে থাকেন । উনি বলেন, এ আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয় । রাবণ পোড়ানোর উল্লাস আমরা দেখতে চাই না । আমরা বিজয় দশমী নিয়েই ভালো আছি । এই বিবিধের দিল্লির ভিতর আমি মিনি ভারতবর্ষকে দেখি । সর্বধর্ম সম্প্রদায় এখানে রাবণ পোড়ানো দেখতে এসেছেন । প্রথমে ইন্দ্রজিত, পরে কুম্ভকর্ণ কে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় । রামযাত্রার রাম এসে তীর মেরে রাবণকে আগুন ধরিয়ে দেন । ইয়া বড় বড় রাবণ নিমেষে আগুনে পুড়ে ধরাশায়ী হয়ে পড়ে । মানুষের কি উল্লাস । মানুষ কি সত্যিই এতোটা হিংস্র হতে পারে ?

Read More

তুমি কোন অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী

আমাদের ঘটিবাড়িতে আবার অষ্টমীর দিন ভাতের কিচ্ছু চলে না। আজ বেলায় লুচি, আলুর দম, ফুলকপির ডালনা আর ছানার মুড়কি। অমন করে দেখলে হবে? বলেছিলাম তো, চলে আসুন সকাল সকাল। যাক গে, সন্ধে গড়িয়ে যাচ্ছে যে ! চলুন আর দেরি না করে বেরিয়ে পড়া যাক। আজ পাড়া থেকে বেরিয়ে বাঁ-দিকে যাবো। ওই যে সামনেই ত্রিকোণ পার্কের পুজো। দেখে নিয়ে চলুন – সোজা রাসবিহারী মোড়ের দিকে। দু’দুটো সুপার স্টার পুজো। প্রত্যেকবার নতুন নতুন থিম দিয়ে চমকে দেওয়া বাদামতলা আষাঢ় সংঘ। তার উল্টোপিঠেই গত কয়েক বছরে প্রচাররের আলোয় চলে আসা ৬৬ পল্লি। এবার যদি মন চায় এমন সুপার স্টার পুজোই দেখব, তাহলে ধরুন একটা অটো। চেতলা ব্রিজ পেরোলে চেতলা অগ্রণী, আরেকটু এগোলে সুরুচি সংঘ।

Read More

পুজোর পরবাস

আমাদের পুজোটি যেখানে হয় সেটি একটি স্কুল পরিসর। জায়গার কোনো অভাব নেই। স্কুলের ছাদেই পাতপেড়ে চলে ভুরিভোজ, কী নেই তাতে- খিচুড়ি, পোলাও ,বেগুন ভাজা, লাবড়া, দই, মিষ্টি। প্রসাদের কোনো অভাব হয়না, বাঙালী থেকে অবাঙ্গালী সবার লাইন পড়ে যায়। ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমসিম খেতে হয় পুজো কমিটির কর্ম-কর্তাদের। একবার হল কি, সেদিন আমিও প্রসাদ বিতরণে শামিল। তো সেই ব্যাচ শেষ হবার পড়ে আরেকটি ব্যাচ বসতে যাচ্ছে এমন সময় আমাদের কোম্পানিরই কোয়ালিটি ডিপার্টমেন্টের একজন স্বল্প পরিচিত বাঙালী খেয়ে উঠে এসে একটি টিফিনবাক্স এনে সামনে ধরল। স্বল্প পরিচিত এই জন্যই যে দু’তিন বছর হয়েছে এখানে জয়েন করেছে তাই তেমন ভাবে আলাপ হয়ে ওঠেনি। উনার মিসেস আসতে পারেনি, তার জন্য ঘরে প্রসাদ নিয়ে যেতে চায়। আর এদিকে কমিটির কড়া নির্দেশ কারও বাড়ির জন্য প্রসাদ দেওয়া চলবে না।

Read More

সামান্য ফুল, সামান্য পাতা— স্মৃতির পূজা

সুন্দরবনেও দেখেছি বাড়িতে মৃতদেহ দাহ করে অধিকাংশ মানুষ একটি মাটির থান নির্মাণ করে রাখতে৷ সেখানে রোজ দুপুরে ফুল আর সন্ধের প্রদীপ জ্বেলে দেয় স্ত্রী সন্তান বা প্রিয়জন৷ প্রতিদিন না-থাকা মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে নিজেদের মুহূর্ত৷ তিনি যে নেই এই শূন্যস্থানে ভরিয়ে তুলছেন--- ‘তিনি আছেন, মনের ভেতরে আছেন’---এই সহজ ভাবনায়৷

Read More

আবার বাংলাদেশ,আমার বাংলাদেশ

ভ্রমণ আমার কাছে মানুষ দেখবার এক মস্ত পরিসর। ভ্রমণ আসলে জায়মান এক বিস্তারের মত। প্রতিটি ভ্রমণ এক নুতন পটভূমির সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। আর এভাবেই হয়তো অগণন সব দৃশ্যের জন্ম হয়।

Read More

নালন্দা ,আলোন্দা বুদ্ধগয়া, আ গয়া

অন্ধকার আমাকে নিয়ে ছুটে চলেছে অস্পষ্টালোক ভেদ করে তামসভ্রমণে। মাঝে মাঝে ঝলসে উঠছে বিদ্যুৎ,তার বর্ণমালায় ফুটে উঠছে রাজগৃহ। কোথাও তো বৃষ্টির দেখা নেই।তবে এই আলো?এই ডিসেম্বরে ঠান্ডা যথেষ্টই। চারপাশ সাড়া শব্দহীন, অন্তত আমি কিছু শুনতে পাচ্ছি না। চলেছি বক্তিয়ারপুর। সেখান থেকে রাজগীর।

Read More

মুখোশ শিল্পের আঁতুড়ঘর ... চড়িদা গ্রাম ...

এক তরুণ শিল্পীর কাছে মুখোশ তৈরির বর্ণনা শুনে শুনে, সঙ্গের নোট বইয়ে টুকে নিচ্ছিলাম। এক একটা মুখোশ গড়তে দুই থেকে পাঁচ দিন লাগে। প্রথমে কাছেপিঠের নদীখাত থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয়। তারপর তাকে মুখোশের গড়ন দেওয়া হয়। এরপরের পর্যায় খবরের কাগজের টুকরো আঠা দিয়ে পরতের পর পরত জুড়তে হয়। প্রায় ১২ থেকে ১৫ টি পরত দিতেই হয়। সারাদিন রোদে শুকিয়ে গেলে বেলেমাটির একটা পাতলা পরত চাপাতে হয়। একটি পাতলা কাপড় কাদামাটিতে চুবিয়ে মুখমণ্ডলের ওপর বসিয়ে দিতে হবে। কাঠের সূক্ষ্ম খোদাই-যন্ত্র দিয়ে চোখ, নাক, ঠোঁট ইত্যাদির আকার সুন্দর করা হয়। এটাই শেষ নয়, শুকিয়ে গেলে কাপড়টি সাবধানে তুলে ফেলে প্রথমে খড়িমাটির প্রলেপ দিয়ে, পরে আঠালো রঙ করা হয়। মুখোশে রাংতা, চুমকি, জরি, প্লাস্টিকের ফুল, পাতা, পাখির পালক, শোলা, ঝুটো গহনা, ঝুটো চুল, পুঁতি ইত্যাদি দিয়ে অলংকরণ করা হয়।

Read More

বিস্ময়পুর

পরিকল্পনায় : সব্যসাচী হাজরা

সহযোগিতায় :

সমীরণ ঘোষ
প্রদীপ চক্রবর্তী
ঋতুপর্ণা বেরা হাজরা

'কোন্ গহন অরণ্যে তারে এলেম হারায়ে / কোন্ দূর জনমের কোন্ স্মৃতিবিস্মৃতি ছায়ে।।'- রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন ভেতরে ভেতরে অনন্ত বিস্ময়ে আরো ঘন হয়ে এলো। সেই ছায়ানটের কাছে আমাদের ইন্দ্রিয় পাতা-ঝরার শিহরনে একটু একটু ক'রে আদিম শব্দ ও শব্দহীনতায় ফিরে গ্যালো ... ধরা-অধরার রহস্যে আমরা পৌঁছে গেলাম কবিতার কাছে।

'আরও বিস্ময় দাও' - কার কাছে চাই? প্রভু! কে সে? সে প্রশ্ন অধরা... তবুও জীবন ও প্রকৃতির বাকে, যে বাঁক-বিস্ময় অনাবিষ্কৃত তার খোঁজেই কেটে যায় জন্ম-মৃত্যুর আলিঙ্গন। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন - 'অন্তবিহীন লীলা'-র কথা। যে নতুন পথ আমাদের দুর্নিবার আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায়, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে চলার অপার রহস্য ও রোমাঞ্চ। জুড়ে আছে ফুটে ওঠা ও ঝ'রে পড়া, চেতনতাড়িত দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ ও স্বাদ। ইন্দ্রিয় তখন বহির্জগতকে প্রবেশের পথ দ্যায়, অন্তর্জগত আলোকিত হয় সেই শিক্ষার অনাবিল উৎসবে। চোখ ও দৃষ্টি, কান ও শ্রুতি, নাক ও গন্ধ, ত্বক ও স্পর্শ, জিভ ও স্বাদ অনুভূতির সংযোগে নিজেকে প্রস্তুত করে, আর এই প্রস্তুতি চলতেই থাকে নতুনকে জানার আশায়। অনালোকিত এক পরিসর আলোকিত হয়, পরিত্যক্ত গলিও দ্যাখার গুণে কথা বলে, বুনোফুল দ্যায় অনিন্দ্যগ্যালারি। চলা হয়ে ওঠে পর্যটন। ভ্রমণ নিছক কাহিনী নয়, সে সাহিত্যও। আমাদের বিস্ময়পুরের উদ্দেশ্য সেই ভ্রমণসাহিত্যকে সামনে আনা।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও পরিব্রাজক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর লেখা 'কেদারনাথ - সেকাল ও একাল' - গদ্যের একটি লাইন মনে পড়ছে - 'পৃথিবী ঘোরে, বছরও ঘুরে আসে, আমিও ঘুরি।'।

Subscribe

Find Us On

Subscribe

Get the lastest news and updates from Bismoypur


সব্যসাচী হাজরা

Subscribe

Social widget