পেট্রোম্যাক্স সরণি যেখানে পৌঁছে দেবে

বিস্ময়পুর ভ্রমণ পত

রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি...
অনেকগুলো বছর রেডিওতে ভোরবেলায় মহালয়ার এই শেষ অংশটুকু কানে ঢুকে গিয়ে ঘুম ভাঙাতো। কেন না তার আগে তো জাগা সম্ভব ছিল না। ঘুম চোখ খুলতো যেন এমনি এমনি না, চিরে চিরে খুলতো। পুরো মহালয়া শুনতে পেরেছি অনেক পরে বেশ বড়ো হয়ে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় থাকার কারণে আমার যাযাবর জীবনে দেখেছি গ্রাম ,মফস্বল , শহরের পুজোর ধরনধারণ , আদলের বৈচিত্র্য । পেট্রোম্যাক্স ল্যাম্প তথা হ্যাজাক বাতি থেকে আজকের ইলেকট্রিক লাইটিং এর যাত্রাটাও কম করে অর্ধশতক পার হলো । পাড়া বা অঞ্চলের ক্লাবগুলো পুজোর তোড়জোড় শুরু করে দিতো মহালয়ার আগে থেকে। পুজো আসছে পুজো আসছে এ খবর নিয়ে নিরবে ডাল ভরা শিউলি ফুলেরাও জারি করতো সুগন্ধি ফরমান। গ্রামের বাড়ির কাছে ঠাকুরতলায় ( ক্লাব সংলগ্ন মাঠ) বট অশ্বত্থ গাছের নিচে বাঘ দেবতা পঞ্চানন শিবের থান। চৈত্র মাসে নীল চড়কের মেলা, সঙের গাজন হয়ে আসছে ওইখানে যথাসময়ে। আবার আশ্বিনের দুর্গোৎসবও ওখানেই। অভাবি মানুষগুলোর মধ্যে উৎসব পার্বনে যে খুশির ঐশ্বর্য দেখেছি তার তুলনা আজ অবধি খুঁজে পাইনি।
ক্লাস সেভেন পড়ি তখন আবার ফিরলাম বাঘাযতীনে শহরের বাড়িতে। বাড়ির ঠিক উল্টো দিকে কাত্যায়নী মন্দির। আশ্বিন মাসে ঢাকে কাঠি পড়লে বই খাতা ফেলে এক ছুটে নাট মন্দিরে জড়ো হতে হয় এটাই অলিখিত নিয়ম ছিল ছোটদের। কেন না চাল কলা তিল বাতাসা মাখা ও সঙ্গে কুঁচো ফলের প্রসাদ মিস করা যাবে না কিছুতেই। তখন থেকে জেনেছিলাম আমাদের জন্ম কোলকাতায় হলেও আমাদের বাবা মায়েরা এসেছেন বাংলাদেশ থেকে। এই কাত্যায়নী মন্দির এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা এবং সেবক এই চক্রবর্তী পরিবারও এসেছেন সেই বাংলাদেশের কুমিল্লা থেকে। ওখানে কাত্যায়নী দেবী দুর্গা পূজার যেভাবে ভার গ্রহণ করেন এঁরা সেই কাহিনীও রোমাঞ্চকর।

কুমিল্লা সহ আরাকান, চট্টগ্রাম এই তিন স্থান একত্রে ককবরক ভাষা অনুসারে ' তৈ ' আর মোহনা অঞ্চল অর্থাৎ ' প্রা ' এভাবে তৈপ্রা থেকে ক্রমে ত্রিপুরা রাজ্যের নাম বিবর্তিত হয়েছে। ইংরেজ অধ্যুষিত অবিভক্ত বাংলায় ত্রিপুরা রাজ্যে তখন রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য। কুমিল্লা জেলা যেহেতু ত্রিপুরা রাজ্যের অধীনে সেখানে রাজাদের দপ্তরখানাও ছিল খাজনা আদায় ও অন্যান্য কাজকর্ম পরিচালনার জন্য। আনুমানিক ১৯৩০ থেকে ৩৫ সাল নাগাদ কান্দির পাড় চৌমুহনীতে অলৌকিক ঘটনা ঘটে। কোথা থেকে এক পরিভ্রমণরত নাগা সন্ন্যাসী সেখানে কাছে দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতী নদীতে স্নান করতে নামেন। জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে মন্ত্রোচ্চারণ তর্পণ করার সময় তার পায়ে শক্ত ধাতব কিছু একটা ঠেকে। ডুব দিয়ে সেটা জলের উপরে তুলে আনলে সন্ন্যাসী দেখেন এক অষ্টধাতুর দুর্গা প্রতিমা। প্রায় পঞ্চাশ কেজি ওজনের সেই প্রতিমা  দুইহাতে বয়ে নিয়ে লোকালয়ের মধ্যে এলে হৈচৈ পড়ে যায়। দীর্ঘদেহি জটাধারী সেই নাগা সন্ন্যাসীর সারা গায়ে ভষ্ম মাখা । প্রথম দর্শনেই মনে হচ্ছে যেন সাক্ষাৎ শিব হাতে করে ওই ভারি দুর্গা প্রতিমা নিয়ে হেঁটে আসছেন লোকালয়ে। উপস্থিত মানুষজন বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে অনুরোধ করলেন তিনি যেন এই দুর্গা প্রতিমার পুজো করেন এবং সেখানে তাদের মধ্যেই থেকে যান। তিনি সন্ন্যাসী পরিব্রাজক তাই রাজি কেন হবেন । অবশেষে রাজাদের অফিসে প্রাথমিকভাবে প্রতিমা রাখা হয়েছিলো। লোকমুখে শোনা গিয়েছিল যে, এই দুর্গা প্রতিমা আসলে নেপালের রাজাদের। এমন ধারণা করার কারণ এই দুর্গা প্রতিমার আদলে নেপালের শিল্পরীতির স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে আর মূর্তি অষ্টধাতুর হলেও এতে সোনার ভাগ বেশি । সম্ভবত পারিবারিক বিবাদের জেরে নদীতে কেউ বিসর্জন দিয়েছিলো।

রাজা বীর বিক্রম কিশোর লোক পাঠিয়ে কুমিল্লায় চারদিকে খোঁজ করতে লাগলেন যে কাকে এই দুর্গা প্রতিমা পূজার ভার অর্পণ করা যায়। রাজার লোক আসে চক্রবর্তী পরিবারের বর্তমান বংশধর নিতাই চক্রবর্তীর প্রপিতামহ স্বর্গীয় বৈদ্যনাথ চক্রবর্তীর কাছে। তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান তান্ত্রিক ব্রাহ্মণ। পরিধানে লাল বস্ত্র থাকতো সবসময়। রাজার প্রস্তাবে বলা হয় পুজো করার জন্য মাসিক পাঁচ টাকা ভাতা ও প্রতি অমাবস্যায় একটি করে পাঁঠা বরাদ্দ করা হবে, তিনি যেন রাজার প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। ব্রাহ্মণ বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী রাজি হলেন। একটা অস্থায়ী ছাউনি গড়ে পুজো শুরু হল। দুর্গা প্রতিমা তখন থেকে দেবী কাত্যায়নী রূপে পূজিত হতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে মন্দিরের পাকা দালান নাট মন্দির তৈরি করে দেন ঁনরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত। যিনি ওখানে কুমিল্লা ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন নামে একটি ব্যাঙ্ক ও আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ।
পুজো চলতে লাগলো। স্বাধীনতা সংগ্রামের জোয়ারে এদিকে সারা বাংলা উত্তাল । কুমিল্লায় গিয়ে সভা করছেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস প্রমুখ বিশিষ্ট নেতৃত্ব বৃন্দ। দেবী কাত্যায়নীর উপাসক ব্রাহ্মণ বৈদ্যনাথ চক্রবর্তীর পুত্র শ্রী ফটিক চক্রবর্তীও যোগ দিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। গ্রেফতার হয়ে স্থানান্তরিত হতে লাগলেন বিভিন্ন জেলে। বৈদ্যনাথের মৃত্যু ঘটলে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে অন্তর্বর্তীকালীন বেল এ ছাড়া পেয়ে কুমিল্লা ফিরে পিতা বৈদ্যনাথের পারলৌকিক কাজ সম্পন্ন করলেন ফটিক চক্রবর্তী । পরবর্তীতে দেবী কাত্যায়নীর পূজার ভার নেন তিনি ।
অশান্তি শুরু হল বাংলাদেশে। ৪৭ সালে দাঙ্গার ওই সময়ের মধ্যেও মন্দিরের উপর কোনো আঁচ আসেনি। ইতিমধ্যে বর্তমান বংশধর দুই পুত্র ও এক কন্যার জন্ম দিয়েছেন স্ত্রী দুর্গালক্ষ্মী দেবী। বালক অবস্থায় বিদ্যালয়ের সামনে পুত্র কানাই , নিতাই ও কন্যা রাসমণি চক্রবর্তী দেখেছেন  ৫২র ভাষা আন্দোলনকারী ছাত্রদের সংগ্রাম । কুমিল্লা ছেড়ে আসবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিলো নানাভাবে। কিন্তু দেবী কাত্যায়নীর প্রতিমা আনা হবে কেমন করে ? চিঠি লেখা হল রাজার কাছে । উত্তর আসে রাজার আপত্তি নেই কিন্তু স্থানীয় লোকজন আপত্তি জানালে তিনি অপারগ দেবী মূর্তিকে ওখান থেকে নিয়ে যেতে দিতে।  উপায়ান্তর না দেখে প্রতিমার আদলে ছাঁচ তৈরি করে আনার জন্য চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তা ব্যর্থ করে দেয়। রাতে বিছানায় শুলে দু চোখের পাতা যেন কিছুতেই এক হতে চায় না। একাধারে সংগ্রামী যোদ্ধা ও মায়ের সেবক ফটিক চক্রবর্তী এই হার যেন মেনে নিতে পারছেন না কোনোভাবে। ক্ষুব্ধ দুঃখিত অন্তরে মায়ের মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। সেই রাতে স্বপ্ন দেখলেন, মা যেন বলছেন - দুঃখ পেয়ো না। আমি যে জগতের মা। তুমি যেখানে আমাকে মা বলে ডেকে অর্চনা করবে, সেখানেই আমাকে পাবে বংশ পরম্পরায়...। তন্দ্রা ছুটে গেলো তার আনন্দে । মায়ের অমোঘ আশ্রয় পেয়ে গেছেন তিনি। পরদিনই যোগাড় যন্ত্র করে ছবি তুলে নিলেন লুকিয়ে। ৫৩ সালে কোলকাতায় সেই ছবি দেখে প্রথমে ছাঁচ গড়ে দিয়েছিলেন রমেশ চন্দ্র পাল।  মূর্তি ঢালাই হয়েছিল বিডন স্ট্রিটে। তারপর বাঘাযতীনে মা কাত্যায়নী মন্দির তৈরি এবং দেবীমূর্তির প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসেন হোমিওপ্যাথি ওষুধ প্রস্তুতকারক বিখ্যাত সংস্থা এম ভট্টাচার্য এন্ড কোম্পানির কর্ণধার মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের পালিত পুত্র হেরম্ব চন্দ্র ভট্টাচার্য সহ কুমিল্লা ছেড়ে আসা অন্যান্য বিভিন্ন মানুষ।

মায়ের ইতিহাস জানা ছিল না এতটা। এই লেখাটার জন্য নিতাই দা ও কৃষ্ণা বৌদির কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে উঠে এলো অনেক তথ্য তৎকালীন কুমিল্লা সম্পর্কে। শচীন দেব বর্মন মীর দেব বর্মন আসতেন মাঝমাঝেই, কাজী নজরুল ইসলামকে কাছ থেকে দেখেছেন এঁরা। প্রমীলা দেবী ছিলেন ফটিক চক্রবর্তীর বন্ধুর বোন। যাইহোক, মা কাত্যায়নীর কাছে তার উপাসক পরম্পরায় এখন নিতাই দা' তাঁর স্ত্রী, পুত্র পুত্রবধূ, পৌত্র, অন্যান্য পরিজন নিয়ে রয়েছেন। মায়ের তিন বেলা ভোগ দেওয়ার রীতি আগের মতো তেমন ভাবেই দেওয়া হয়, শুধু নবমীতে ছাগবলি বন্ধ করে প্রতীকি রূপে এখন চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। এবার জয় গো মা কাত্যায়নী বলে প্রসঙ্গান্তরে যাই।

পাড়ার ক্লাব ও আশেপাশে এতগুলো দুর্গাপূজা এখানে হয় সেটা শারদোৎসব এলে বোঝা যায়।  বিবেকানন্দ মিলন সংঘ, মৈত্রী সংসদ, বিদ্যাসাগর সার্বজনীন , পাঁচ নং রুট ধরে এগোতে থাকলে অরুণাচল সংঘ, রামগড়, বৈষ্ণব ঘাটায় পঞ্চদুর্গা, গড়িয়া মিতালী সঙ্ঘের নবদূর্গা, কামডহরির পঞ্চদুর্গা , ছয় নং রুটে নাকতলা উদয়ন আরও অসংখ্য পুজো দেখে শেষ করা যায় না। রাস্তাঘাট আলো পোস্টার হোর্ডিং এ ছয়লাপ। থিমের ব্যবহার এখানেও জমজমাট। সঙ্গে সঙ্গে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাঘাযতীন থেকে একটু এগোলেই সুকান্ত সেতুর উপর যে পুজোটা হয় সেটাও নাম করা। ঠিক উল্টো দিকে আরেকটি পুজোয় এবার বোলপুর থেকে সাঁওতালি নাচের দল এসেছিলো। সুকান্ত সেতু ধরে এগিয়ে বটতলার দিকে ত্রিকোণ পার্ক অনেক বছর ধরে উল্লেখযোগ্য পুজোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। সোপান, সিঁড়ি'র চোখ ধাঁধানো থিম প্যান্ডেল প্রতিমা নজর কাড়ে। জিভ লকলক করে হাজার হাজার স্টলে হরেকরকম খাবার দেখে। রোল চাউমিন সারা বছর মেলে। কিন্তু এই মহা পূজায় অবাঙালি স্ট্রিট ফুড ও বোধহয় অফিসপাড়া ছেড়ে পুজো প্যান্ডেলের সামনের স্টলে হাত বাড়ালেই মেলে। নবদূর্গার ওখানে নজর কেড়েছে এবার ছয় সাত রকমের নানান স্বাদের ফুচকা। গ্রিন ফুচকা, মাংসের পুর দেওয়া ফুচকা, বীট ফুচকা ইত্যাদি, গতানুগতিক আলুমটর এবং দই ফুচকা তো ছিলই। বাঙালির সেরা উৎসব আর ভুরিভোজ ছাড়া কী বাঙালির চলে ! তবে সাধ আর সাধ্য ক্ষুধানুসারে বিবেচনা করার কথা আজও অনেক বাঙালিকে মাথায় রেখে চলতে হয়। 

সব পুজো তো দেখা হয় না, দেখা যায় না। ভারতমাতা, যোধপুর পার্ক বাবু বাগান একডালিয়া সিংহী পার্ক অশেষ ভিড় তেমনি অপূর্ব আলোকসজ্জা ও প্রতিমা । লেখার শেষে এসে দুটো পুজোর কথা বলবো । যেটা আমাদের মতো ভাবা পাগলাদের বুঁদ করে রাখার জন্য যথেষ্ট । একটা হিন্দুস্থান পার্কের পুজো, এখানে সমস্ত প্যান্ডেল সেজেছিলো বিভিন্ন কবির অনন্য সব পংক্তিমালায়। আমার পা সরছিল না এগোতে। ওই যে প্রথমেই বলেছি বিভিন্ন যায়গায় আমার থাকা হয়েছে ছোট থেকে। আমি, জয় আর ছেলে আমরা থাকতাম এখানে অম্বুজায় ফ্ল্যাটে। তাই সার্ভে পার্ক সন্তোষপুর ও আমার এলাকা ভাবি । এবার পুজোয় সার্ভে পার্ক নীল পুকুর পুজো কমিটি আমাদের লিটল ম্যাগাজিন গবেষণা ও সংগ্রহশালার কর্ণধার সদ্যপ্রয়াত সন্দীপ দত্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অপ্রতিম এই বিষয়টি থিম করে তাদের পুজোয় মূল আকর্ষণ হিসেবে রেখেছেন। 

রাত দেড়টা তখন বাজে বাস থেকে নিলপুকুর স্টপেজে নেমে প্রথমে খুঁজে পাইনি । অজয় নগর অবধি গিয়ে ওপারে ঠাকুর দেখে বাসে উঠে পড়েছি মন খারাপ নিয়ে। মনে মনে বলছি সন্দীপ দা খুঁজে পাচ্ছি না তোমাকে। বাস নীল পুকুর ধরে জোড়া ব্রিজের দিকে বাঁক নিতেই চোখে পড়ে গেল বিরাট হোর্ডিং এ সন্দীপ দার সেই চিরচেনা স্মিত হাসিমুখ। রাত তখন আড়াইটা বাজে। নেমে পড়লাম বাস থেকে। টেমার লেন এ লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি এবং তার ভিতরে সন্দীপ দা যেমন বসে কাজ করতেন হুবহু তারই অনুকৃতি তারা তৈরি করেছেন। পুরনো নতুন অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিন দিয়ে সাজানো হয়েছে এখানে। তারই মধ্যে চেয়ারে বিরাজমান সন্দীপ দা, সামনে টেবিলে খোলা বই, টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে। তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ, যেন বলছেন , কি রে কেমন টেনে আনলাম! ঠাকুর ও দেখে যা। গেলাম ঠাকুরের সামনে । এবারের পুজোয় সার্ভে পার্ক নীল পুকুরের এই দুর্গা প্রতিমার হাতে অস্ত্র নয়, ছিল বই আর বই কেবল। এই অভিনবত্ব সাংস্কৃতিক সুধীজনের কাছে প্রবল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। সব দেখে ছবি তুলে সন্দীপ দা'কে টা টা বলে আবার বাসে উঠলাম রাত তখন তিনটে বাজে।
নবমীর বিষন্নতা মাখা রাতে ততক্ষণে দশমীর বিদায় লেখা হয়ে গেছে। আকাশ যেন বললো,এবারের মা দুর্গা কিংবা সন্দীপ দা' রা সিঁড়ি ভাঙা অঙ্ক সমাধানের নতুন পথ আমাদের সামনে রেখে দিয়ে গেছেন...। 

About Author
&
Photographer

লেখক : বিদ্যুৎলেখা ঘোষ

প্রথম দশকের কবি

আলোকচিত্রী: বিদ্যুৎলেখা ঘোষ

প্রথম দশকের কবি

Subscribe

Find Us On

Comments

YOU MIGHT ALSO LIKE

Subscribe

Get the lastest news and updates from Bismoypur


সব্যসাচী হাজরা

Subscribe

Social widget