যেন কার পায়ের ছাপ

ভোর। একদম শূন্য এক ভোর শুধু। যেন কার পায়ের ছাপ সেখানে আরও শান্ত হয়ে আসে। মা বলে ডাকলে জল ভেঙে যায়। আলোর গর্ভে আকাশ। আকাশের গর্ভে পৃথিবী। প্রার্থনার সুতো দিয়ে তৈরি হয় আঁচল। মা গো তুমি প্রণবধ্বনিই তো। দেখি অবয়ব। দেখি মায়ের কাঠামোয় শুধু মাটি হয়ে লেগে আছি।
আমার পুজো শুরু হয় বছরের প্রথমেই শীতকালের কোনো এক ভোরবেলা। আচমকা। কুয়াশায় ভোরের প্রথম রোদ পড়ে আছে। রবীন্দ্রনাথের সহজপাঠ ভেসে আসে। কুসুম ফোটা আলো। সহসাই ভেসে আসে, “ছুটির দিনে কেমন সুরে/ পুজোর সানাই বাজায় দূরে’’ ... হঠাৎ মনে হয়, পুজো আসছে। অথচ কত দেরী। কতই যেন দেরী। ভাবতে ভাবতে ক্যালেন্ডারে চোখ। মা তুমি কবে আসবে...
আশ্চর্য লাগলেও সত্যি, শীত থেকেই পুজোর অপেক্ষায় আমার সময় গড়ায়। ঋতু বদলাতে দেখি। শীত পেরিয়ে বসন্ত। সরস্বতীপুজো। নীল আকাশ। রিল চলছে। ক্লিক। ক্লিক। লু বওয়া গরম। পিচ গলা রাস্তা। ক্লিক। আচমকা কালবৈশাখী পেরিয়ে বর্ষা।
ভিজতে ভিজতে ষোড়শী মাটির
অসুখ সেরে যাচ্ছে
যেন অপেক্ষার ঋতু তাকে দেবী বানাবে।
এই সমস্ত দৃশ্যের ফাঁকে ঋতুবদলের বাঁকে মায়ের অপেক্ষা লুকিয়ে আছে। কান্না মানে, গর্তে গড়ালো প্রার্থনার জল। যে মাটি ভিজল তাকে শুকিয়ে দেবীচক্ষু। বর্ষার শেষ হতে না হতেই আকাশে চোখ। “নীল রবারের থাবা পড়ে গেছে এইসব আকাশের গায়ে” ...
এরপর ছুটি। জলে মায়ের ছায়া পড়েছে। আরশিনগর থেকে কুমোরটুলি। দিকে দিকে হাসিখুশী। নতুন জামার গন্ধে পুরনো কাগজ আজ শ্বাস নিচ্ছে কাঁচি আর আঠায়। উপশম মানে, যে কাচ ভেঙে যায়, সুতোর আয়নায় ওড়ে তার ঘুড়ি। এভাবেই হয়তো পাখি বদল হয়। এমনই অকালবোধন, হয়তো কাশবনের ভেতর দিয়ে অনেকটা হেঁটে এসেছে বলে, অসুরের ওপরেও অল্প মায়া হয়।
ছোটবেলা মনে পড়ে তোমাদের? হায় ছোটবেলা। আমার সবুজ ঘাস আর ঢোলকলমীর বিকেল। লাল মেঘের নিচে ভাসতে ভাসতে ঘুড়ির সুতো তখন উড়ে চলে যেত সহজপাঠের পথে। ক্রিকেট ব্যাট, ব্যাঙবাজি, লুকোচুরি পেরিয়ে পেরিয়ে মায়ের প্রাঙ্গণ। তখন বুঝিনি, অতীত আসলে নবমীর রাত। এলেই ফাঁকা করে দেয়। মাগো, তুমি সেই সহজ অপেক্ষা ফিরিয়ে দাও। এত জটিলতা, এত অন্ধকার আর ভালো লাগছে না। মানুষ মানুষকে দেখে ষড়যন্ত্র করে, এই সময় আমাকে ভারী করে তুলছে ক্রমশ। আমাকে ফিরিয়ে দাও ছোটবেলার মহালয়া। সে এক রাত ছিল! ছিল এক প্রাচীন রেডিও। সন্ধে থেকে বাবা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চ্যানেল আনছে। আকাশ থেকে যেন খুঁজে আনছে মায়ের স্তব। রাতের খাওয়া সেরে ঘুম। সেদিন আর ঘড়ির অ্যালার্ম ছিল না। সমস্ত ঘর থেকে বাজতেন বাঙালির পবিত্রতম অ্যালার্ম বীরেন্দ্রকৃষ্ণ। উদাত্তকন্ঠে পাঠ- “আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জির... ধরণীর বহিরাকাশে অন্তর্হিত মেঘমালা” ... মহালয়ার সেই ভোর। সেই শারদপ্রভাত আমাকে ফিরিয়ে দাও জীবন। আমাকে ফিরিয়ে দাও সেই নতুন জামার গন্ধ, জুতোর ফোস্কা আর ক্যাপপিস্তলের সহজ বারুদের রাত।
ছোটবেলার পুজোর দিনগুলো ছিল সোনালী। তখন পুজো মানেই মায়ের হাত ধরে বিভিন্ন প্যান্ডেলে। সাথে বাবা। পিসি। তখন থিমের পুজো ছিল না। দেবীরও আগে মা ঠাকুর ছিলেন। উৎসবের সার্বিক চিৎকারের বদলে তখনও কিছুটা ছিল প্রার্থনার গাম্ভীর্য। আর ঠাকুর দেখা মানেই ছিল এগরোল। বহরমপুর পুজোয় দুভাগ হয়ে যেত। এদিক আর ওদিক। এদিক ছিল গোরাবাজার। ওদিক ছিল খাগড়া। অভ্যুদ্দয় সঙ্ঘ, অজানা সঙ্ঘ, স্পোর্টিং ক্লাব, রাণীপুকুর, রাখী সঙ্ঘ, বাগানপাড়ার পুজো, এগুলো ছিল বহরমপুরের এদিককার, মানে গোরাবাজার ও বাবুপাড়া সংলগ্ন এলাকার বিখ্যাত কিছু পুজো। ছোটবেলায় দেখতাম লালদিঘীর ওপরেই পুজো হত। পাঁচদিন আগে শুরু হত “লাইটিং”। সে এক এলাহী আয়োজন। স্পোর্টিং ক্লাবের আলোকসজ্জা প্রথম হত প্রতিবার। আবার ওদিকে, মানে খাগড়া এলাকায় ছিল মোল্লাগেড়ের পুজো, স্বর্গধাম, ভৈরবতলার পুজো, কাশীমবাজার রাজবাড়ির পুজো, ইত্যাদি। সারারাত হত সপ্তমীর ঠাকুর দেখা। ঘুমচোখে বাড়ি ফেরা। পেট ঠাসা কোকাকোলা আর ডবল ডিমের এগরোলে। অষ্টমীতে চলে যেতাম মামারবাড়ি। মামারবাড়িও বহরমপুরেই। তবে মধুপুর এলাকায়। বাবুলবোনা, বালার্ক, বিষ্ণুপুর কালীবাড়ির পুজো, ইত্যাদি ছিল মধুপুর এলাকার বিখ্যাত তিন পুজো। বাবুলবোনা দেখতে লাইন পড়ত বাসস্ট্যান্ড অব্দি। গ্রাম থেকে দলে দলে মানুষ আসতেন পুজো দেখতে। অষ্টমী মানে, শহরে সবাই সেদিন হাঁটছে।
তারপর,
বিষাদ উঁকি মারত কাছেই। খুব কাছেই বসে থাকতো তার অস্ত্র নিয়ে। সে অস্ত্রের নাম নবমী। প্রত্যেক বছর নবমীর রাতে মায়ের চোখে জল দেখতাম। মা খুব ভালো আবৃত্তি করে। থেমে থেমে পড়ত, “যেও না নবমী নিশি/ আজি লয়ে তারাদলে” ... আজও অভিমান হলে, খুব গভীর কোনো দুঃখ হলে, আমার মনে হয় ওই দিনটাই নবমী। নবমীর রাতে কাঁদতাম। এখন ধূর্ত হয়ে গেছি বলে চোখের জল লোকাতে পারি। এবং আজও, নবমী এলে আমার অভিমান হয়। সে গল্পে যথাসময়ে আসা যাবে। আপাতত, এরপর দশমী। কাকুর বাড়ি যেতাম বিজয়ার প্রণাম করতে। কাকুর বাড়ি ভাগিরথীর পাশেই। সারি সারি ভ্যান, হুল্লোড়, মাতালের চিৎকারের মধ্যেই দেখতাম, একের পর এক প্রতিমা নদীবক্ষে আছড়ে পড়ছে। ধীরে ধীরে অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে মায়ের মুখ। ছোট্ট প্রদীপশিখা শুধু জ্বলছে ফাঁকা বেদীজুড়ে। সমস্ত মানুষের আনন্দকে ধীরে ধীরে ম্লান করে চলে যাচ্ছেন মা। এই ফাঁকাভাব সবাই টের পায় না। যারা পায়, তারা জানে কেন পুজোর অপেক্ষা, পুজোর থেকেও ভালো।
মা গো, তুমি চলে যাবে, এরকম একটা দিন কেন আসবে? কেন আসতেই হবে তাকে?
ক্লাস নাইনের পর পুজোর সোনালী দিনে একটু লালের আভা। নারীদেহ তখন ধীরে ধীরে আলাদা হচ্ছে পুরুষের দেহ থেকে। যেন পিতৃপক্ষ ভেঙে মাতৃপক্ষের আসা। পুজোর তখন হাওয়া একটু টালমাটাল। যেন কার হাসি, কার এলোচুলের ঝাপটা লেগে থাকে হাওয়ায়। কাকে যেন খোঁজা প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে। সারা দুপুর চালানো এপথ ওপথ সাইকেলে। কাকে যেন। চুলে বিলক্রিম জেল। মার্কেটে নতুন ওঠা ছেঁড়া জিনস আর গ্রাফিতি টিশার্ট। কাকে যে দেখাতে বেরোনো সেসব। বন্ধুদের আড্ডায় চোখাচোখি। এক ঝলকে ছলকে ওঠা রক্ত। সদ্য ওঠা ব্রণ। ক্লাস টেনের পুজোয় সুন্দরীদের নম্বর দেওয়া হত রীতিমত। একদিন এক নবমীর সকালে এক বন্ধুর সাথে তো প্রায় হাতাহাতি হয়ে গেল। ১০ এ যাকে ৬ দেওয়া হয়েছে তাকে ৪ দিতে হবে। বাগানপাড়ার একজনকে নাকি অলরেডি ৬ দেওয়া আছে। বেচারি সুন্দরীরা কখনও জানতেও পারেনি, কখন তারা এত কঠিন একটা কোর্স কমপ্লিট করে এত কঠিন এক পরীক্ষায় বসল আর এত খাঁটি একটা ইন্টারভিউ প্যানেল থেকে তাদের নম্বর দেওয়া হল।
মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে কলেজ অব্দি পুজো ছিল প্রায় একরকম। কলেজের পুজোর মধ্যে ঢুকল বিরহ। ভাঙা প্রেমের পিছু পিছু অবধারিত ফেউ হয়ে ঢুকলো পানীয় আর প্রথম সিগারেটের স্বাদ। ২০১০ এর পরে বহরমপুরের পুজোতেও অনেক বদল ঘটেছে। সাবেকি পুজোর বদলে তখন জায়গা করে নিচ্ছে থিমের পুজো। অভ্যুদ্দয়, স্পোর্টিং ক্লাব, বাবুলবোনা এদের সেই জাঁকজমক আর নেই। বদলে ভিড় হচ্ছে আয়েসবাগ, হরিদাসমাটি, অযোধ্যানগরের মন্ডপে। থিমের পুজো চারিদিকে। কোথাও একশো ফুটের দুর্গা তো কোথাও আশি ফুটের অসুর। কোথাও বিয়ার বোতলের প্যান্ডেল তো কোথাও স্বর্ণমন্দির। রুচি, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি সবচেয়ে বদলে গেছে সম্ভবত ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। টেলিফোন থেকে মোবাইল হয়ে এবার স্মার্টফোনে মত্ত পৃথিবী। আরাধনার বদলে সেলফি। আনন্দের বদলে হুল্লোড়। শৈশবের বদলে অপরিণত পাকামো। কলেজজীবনের পরে ঠাকুর দেখা ব্যাপারটা ক্রমশ একদমই শেষ হয়ে এল। সে যাই হোক...
লেখালিখির জগতে ঢোকার পরে, পুজোটা কাটতো আরও অন্যভাবে। উমাদা (কবি উমাপদ কর) আসে বহরমপুরে পুজোয়। উমাদার সাথে একদিন বসা হল। সমীরণদার (কবি সমীরণ ঘোষ) কবিতা শুনে কেটেছে কত পুজোর রাত। ২০০৮ থেকে রবীন্দ্রসদনের সামনেই মূলত আড্ডা। তখন অল্পবিস্তর থিয়েটারে ঝুঁকে। লেখাও অল্প অল্প শুরু হচ্ছে। ২০০৯ সালে সমীরণদার সাথে আলাপ। অজয়দা আসত। নীলাঞ্জনদা। তুষারদা। কৌশিকদা। প্রদীপ ভট্টাচার্য। বুলাদা। বুলাদার মেয়ে ঐশী। চারপাশ থেকে বিভিন্ন মানুষ এক হতেন পুজোয়। কেউ লেখা পড়ছে, কেউ আগুনের রাজনীতি, কেউ গান গাইছেন উদাত্ত গলায়, কারো গলা একটু জড়ানো, তবু আপন। সমাগম। রবীন্দ্রসদনের একটা বড় ঠেক। বর্তমানে তা ভেঙেছে নিজস্ব সময়ের নিয়মে। ধীরে ধীরে জীবনের কিছুটা বাঁকবদল। আরও অন্যরকম কিছু মানুষের সাথে আলাপ হল। পিকুদা, অতীনদা, বাপ্পা, দেবনাথদা, অশোকদা, মৃদুলদা, এদের সাথে গভীর আলোচনায় কেটেছে কত রাত। সঙ্গী আমি আর মিলটনদা। গল্পের নানা প্রসঙ্গ। জীবন, দর্শন, ঋতু, পুরাণ, পুরনো গান, সিনেমা, যাপন, লেখা, উপনিষদ, সত্যের খোঁজ, কতকিছু নিয়ে কত আলোচনা রাতের পর রাত!
সেসব রাতের স্মৃতি আজকাল পুজো বলেই মনে হয়।
শুধুই কি কবিতা আর দর্শন? নাহ, চূড়ান্ত ছ্যাবলামোও হয়েছে কিছু। কে যেন গভীর রাতে টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গেল নর্দমায়। তোল তোল তোল। পাশের সঙ্গী নির্বিকার সিগারেট খাচ্ছে। নেশার ঘোরে কেউ পড়ে রইল ঠেকেই। মশায় ছেঁকে ধরা মুখ তার। মহালয়ার এক পিকনিকে কেউ প্রায় উলঙ্গ। বাংলা ছেড়ে হিন্দি বলছে। কাকে যেন ফোন করে কাউকে দিয়ে মেয়েদের গলায় ডেকে আনা নকল দেখা করতে। কাকে সারা সন্ধে উকিলের ভয় দেখিয়ে প্রায় কাঁদিয়ে দেওয়া।
জিন্দেগী সফর মে গুজর যাতে হ্যায় যো মকাম/ ওহ ফির নেহি আতে... ওহ ফির নেহি আতে...
সময় বয়ে চলে নিজস্ব খাতে। বাঁক বদলায় জীবনের। ভেঙে যাওয়া বারবার। তবু এ চলা, যেন খড়ের গায়েই আছড়ে পড়ছে মাটি। নদীর অরূপ মাতৃদেহ। আমরা সবাই খড়। গুঁড়ো খড়। খড়াণু। ভেসে যেতে যেতে আঁকড়ে ধরা এই সৃষ্টির মাটি। মা বারবার। কেন এলাম মাগো? কীসের এই চলা তুমি বলে দাও। কোথায় চলেছি তুমি বলে দাও। তুমি দশভূজা। হাতে অস্ত্র পায়ে সদাশিব। সংসারের নরমুন্ডমালা তোমার গলায়। তুমিই ধারণ করো তুমিই সংহার। কখনও স্নিগ্ধ কখনও রূদ্র। কে তুমি? কে তুমি মা? কে আমি? আমিই তো তুমি। কীসের লিঙ্গভেদ? আমাদেরও কি তবে নারীদেহ? আমরা প্রত্যেকে প্রকৃতি। পুরুষের খোঁজ করছি মাত্র। আর ভাবতে পারি না। মেঘ সরে। নীল আভা আকাশে এলে মায়ের হাসি শোনা যায়। “পুজো আসছে” শুনে এখনও ভেতরের আমবাগানে দমকা শরতের হাওয়া ওঠে। এখনও নবমীর রাতে অভিমান হয়। মা তুমি ছেড়ো না হাত। মা তুমি থাকো আরও কিছুটা। এখনও অনেক বাকি। তোমারই দেহের মহাকাশযানে চেপে তোমাকেই ঘুরব। কেন শুধু তিনদিনের এই আনন্দ দিয়ে ডুবে যাও জলে। তলিয়ে যাও না তো। কোথায়ই বা তলাবে তোমার প্রকৃত নিরাকার? জানি প্রতিদেহ আসলে জল, তবু চোখ দিয়েই গড়ায় ব্যথাপ্রতিমা। যেন ডুবে যাওয়া আসলে জলের কোনো ঘটনাই নয়। কোনো দুঃখই দুঃখ নয়। মায়ের দেওয়া বাহন। কোনো আনন্দই আনন্দ নয়। মায়ের দেওয়া অস্ত্র। আমরা সৈনিক এই বি-সম প্রকৃতি যুদ্ধে। তবু মা চলে যাবে, এই বিষাদ গ্রাস করে। আর, এখনও দশমীর পরের বিষাদ থেকে আমাকে বাঁচায় কোজাগরীর চন্দ্রালোকিত নির্মেঘ আকাশ। আর কালীপুজোর এক সরু শীতার্ত রাতে তার চূড়ান্ত রূপ আমি দেখি কোনো গ্রাম্য মন্দিরের গমগমে শাক্ত স্তবে।
গোল গোল পুজো। প্রার্থনা গোল হয়ে আসে। বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়। মা। আবার এসো।
মা।

















Comments