গুলমার বিস্ময়

বিস্ময়পুর ভ্রমণ পত

চাক্কা বন্‌ধ। আচমকা ছুটি। সকাল এগারোটা। বেরিয়ে পড়েছি। চম্পাসারি পার হচ্ছি। বাজার ফাঁকা। বাস রিক্সা অটো যে যেখানে, দাঁড়িয়ে, স্ট্যাচু। কোথায় যাবো? কীভাবে যাবো? ঠিক নেই। ঘ্যাঁক করে একটা অটো সামনে এসে দাঁড়ালো। দু’জনে ছুটে গেলাম। ড্রাইভার বললো- রিজার্ভড।

যাত্রী দু’জনকে সোনা জিজ্ঞেস করলো- কোথায় যাবেন? আমাদের নিয়ে চলুন। বেড়াতে বেরিয়েছি। যেখানে মন চাইবে নেমে যাবো।

যাত্রী এক ভদ্রলোক মজা পেয়ে গেছেন। জড়ানো গলায় বলে উঠলেন- উঠে পড়ুন।

গা টিপে ইঙ্গিত করলাম ওঠার দরকার নেই। ওরা মদ খেয়ে টর। আমার হাত বগলদাবায় জাপটে ধরে সোনা উঠে পড়লো। ভদ্রলোক চেনা। হংকং মার্কেটের দোকানি। ছুটি পেয়ে পিকনিকে যাচ্ছেন।

কোথায় নামবো? কেনো নামবো? হিসেব কষতে কষতে নেমে পড়লাম গুলমার মোড়ে।    

পায়ে পাওয়া পথ। এগিয়ে রেললাইন। পার হয়ে জঙ্গল। কিনারায় গুলমা স্টেশন, ফাঁকা। বেঞ্চে বসলাম। স্টেশনমাস্টার বেরিয়ে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন- কোথায় যাবেন?

সোনা বললো- ওই যে ব্রিজ, তারপর জঙ্গল...  

- খবরদার না। ব্রিজ পর্যন্ত। ওপারে একদম নয়। হাতি চিতা যখন তখন... ক’দিন আগে চিতা স্টেশনে ঢুকে কাউন্টারে থাবা বসিয়েছিলো।

কে কার কথা শোনে! ভর দুপুর। বেরিয়ে পড়লাম। মেঠো পথ। সামনে নদী। ওপারে জঙ্গল। চলেছি। চুপচাপ। বাঁ দিকে শাল পিয়ালের বন। পথে আচমকা বেলগাছ। ঝুঁকে পড়েছে। কাঁটার ডাল বাড়িয়ে টেনে ধরছে। যেতে দিতে চায় না। কে কার কথা শোনে! উঁচু নিচু মাটির ঢিপি পেরিয়ে- এসে পড়লাম ধু ধু বালির চরে। তিরতিরে তরল আয়না নদী। পাহাড়ি স্রোত। ঝুঁকলাম। এক জোরা মুখ ভেঙে ভেঙে ভেসে গেলো। খবর গেলো জঙ্গলে- দু’জন আসছে।    

মাথার উপর রেলব্রিজ। বেঞ্চে একজোড়া ছেলে মেয়ে। বোধ হয়, প্রেমিক প্রেমিকা। মাঠে ছড়ানো গরু, ছাগল ভেড়া। গাছতলায় পা ছড়িয়ে রাখাল বালক। জলে স্থলে বাজায় বাঁশি। ভালোবাসি ...।

হাঁটু জল। পার হলেই জঙ্গল। শোনা যাচ্ছে পাখির কাকলি। রেল আজ বড় নিঃসঙ্গ। জঙ্গলের বুকে হাত পা এলিয়ে দিয়েছে। সোনা বললো- চলো, জঙ্গল দেখে আসি।

বাচ্চাদের বারণ করলে যা করে। বিস্ময় প্রকাশ করে বললাম- এরপরও যাবে?

- হ্যাঁ, ওই দ্যাখো, মোটর বাইকে একজোড়া স্বামী স্ত্রী চলে গেলো। গিয়েই দেখিনা!

ভদ্রলোকের অভয়ারণ্য নয়। পায়ে হেঁটে ঘোর অরণ্যানী। মনুষ্যের অগম্য। কী আশায় ব্যাকুল জানি না, সোনা হাঁটতে শুরু করলো। বাঁশি হাতে রাখাল বালক নেই। শূন্য গাছতলা। নুড়ি পাথর বিছানো পথে গোরুরপাল ফিরে চলেছে। পিছনে হেই হেই শব্দ- সেই গো-বালক। ওপারের জঙ্গল ফুঁড়ে কাঠ মাথায় জংলী মেয়েরা সার বেঁধে... নদী পার হয়ে চলেছে গাঁয়ের পথে। 

সোনাকে জিজ্ঞেস করলাম- কি গো, ভরদুপুরে সবাই ফিরে যাচ্ছে?

- সূর্য হেলতেই এখানে সন্ধ্যে নামে। বন্যজন্তুর ভয়।

লাইনের ধার বরাবর পথ। জিজ্ঞেস করলাম- কোথায় গেছে?

- সেবক।  

হাঁটা শুরু করলাম। উলটো দিক থেকে আসা একটা বাইক ঘ্যাঁক করে দাঁড়ালো। দুটো ইয়াং ছেলে। মুখে নেশার জিনিস ভর্তি। বন্য জন্তুর বদলে মানুষের ভয়ে সিঁটিয়ে দাঁড়ালাম। ছেলে দুটি এক সঙ্গে বলে উঠলো- আন্টি, এ পথে হেঁটে যাবেন না। হাতি চিতা সাপ যখন তখন ...

সোনা বললো- না না। এবার ফিরে যাবো।

বাইকের আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে মিলিয়ে গেলো। চরাচরে দুটি প্রাণী আমরা আর অনন্ত জঙ্গল। থমথমে হাওয়া। সামনে-পিছনে, ডাঁয়ে-বাঁয়ে, ওপর-নিচে শুধু চুম্বক। রহস্য, রোমাঞ্চে ভরপুর! আমাদের টানছে। সম্মোহিতের মতো দু’জন দু’জনের হাত ধরে গভীর জঙ্গলে পা বাড়ালাম। স্তব্ধতা গ্রাস করলো। পথহীন পথই চলার পথ। জঙ্গলের মাথায় ক্লিং ক্লিং বাজিয়ে কে সাইকেল চালিয়ে গেলো! চমকে উঠলাম। আকাশে মোবাইলের রিংটোন! ঘাবড়ে গেছি। খুঁজছি- কে বা কারা? ফ্রুরররর...... রেফারির বাঁশি! ফাউল? নাকি গোওওওল!!! চোখের সামনে উড়ে গেলো, চোখ গেলো চোখ গেলো...। ভালো করে শুনতেই বুঝলাম, পাখিদের ডাক। জঙ্গলে  জলসা বসেছে। জানা অজানা নানান সুরবাহার। কোথাও তানপুরা বাজছে, কোথাও বেহালা... সেতার নাকি! হঠাৎ গীটারে ঝংকার। ঝিঁ ঝিঁ পোকার একটানা সুর ব্যাকগ্রাউন্ডে। রাত্রির আবহ। অভ্যাগত অতিথি আমরা, বুঝি সংবর্ধনা বসেছে। জঙ্গলের নেশায় বুঁদ  দাঁড়িয়ে গেছি। অজানা অচেনা শিল্পীদের খুঁজছি।  

সোনা হাত ধরে টানছে- গান ভালোবাসো। চলো যাই সংগীতের আরো গভীরে।

বললাম- তোমারই জঙ্গল ঘোরার শখ।

বাঘ, সিংহ, হাতি গণ্ডার থাকুক না থাকুক, আমারও কিন্তু ইচ্ছে হচ্ছে, কিছু দেখি।

এখানে সূর্য ডোবে না। ওঠেও না। বার্‌, মাস, বছর চলে না। কেবল দিন হয়। বিকেলের আগেই দিনকে গিলে খায় অন্ধকার। গভীর গহন নিবিড় ছায়া ঘন অরণ্যে হেঁটে চলেছি। মাষ্টারের বারণ মনে নেই। অজানা টানছে। রহস্যের দিকে লতাগুল্ম ভেঙে পথ তৈরি করার রোমাঞ্চ পেয়ে বসেছে। ভাবছি- না, আর যাবো না। যাওয়া ঠিক হবে না। আবার ভাবছি- না না আর একটু যাই! এক সময় আমি যেতে না চাইলেও সোনা হাত ধরে টেনে নিয়ে চলেছে। - চলো না, আর একটু যাই।

পিছনে টানছি। - না, যেও না।

দু’জন একা হলে ভালোবাসার কাছে যেমন গলে যাই, জঙ্গলের ভিতর দু’জনেই গলে যাচ্ছি। সোনা পড়পড় করে ঢুকে যাচ্ছে জঙ্গলের গভীর থেকে গভীরে। গা ছমছম  করা এক অপূর্ব সুখ! বুনো ডালপালা খুশিতে হাঁচড়ে কামড়ে দিচ্ছে। গা হাত পা ছড়ে রক্ত ঝরছে। শুনিয়ে বললাম- সোনা, আমি কিন্তু কামড়াইনি, খামচাইনি।

গায়ে আমারও কাঁটা দিচ্ছে। সুখ, অতীব সুখ। জন্তু জানোয়ারের সুখে এগিয়ে চলেছি। সুখে আনন্দে বুঁদ।  

হুঁশ নেই। হঠাৎ খসখস্‌। সোনা থমকে দাঁড়ালো। আমিও। চোখ কান নাক সতর্ক। বোঝার চেষ্টা করলাম, কিছু ঘটছে? ঘটলে কিচ্ছু করার নেই। একদম খালি হাত পা। জায়গায় দাঁড়িয়ে খুন হয়ে যাবো। মনে পড়লো, দুই পথিকের হুঁশিয়ারি। জয়ন্তি জঙ্গলের গাইড গোপাল বলেছিলো, কাছাকাছি হাতি থাকলে পচা পাঁকের গন্ধ পাবেন। বাঘের বোঁটকা গন্ধ। বড়ো হিংস্র জন্তুরা আশেপাশে থাকলে বানরেরা কিচমিচিয়ে জঙ্গল চমকে দেবে। চারিদিকে চোখ রেখে, গন্ধ শুঁকে বোঝার চেষ্টা করলাম। শুধুই বুনো ঝোপের গন্ধ কি? কিছু একটা মনে হয়েছে। সোনা দাঁড়িয়েই আছে। জঙ্গল ভেঙে কারো বা কিছুর এগিয়ে আসার শব্দ! সোনা দ্রুত হাত বাড়িয়ে দিলো। - হাত ধরো, রূপা হাত ধরো ...

জঙ্গল ছেড়ে বেরুবার পথ ধরলাম। দ্রুত হাঁটছি। লতা গুল্ম ডালপালা ভাঙা পথের চিহ্ন হারিয়ে ফেলেছি। পথ খুঁজে পাচ্ছি না। রেল লাইনের দিকে অনুমানে ছুটছি। নিজেদেরই পায়ের চাপে ভাঙছে অজস্র শুকনো পাতা। বিচিত্র মর্মর। মনে হচ্ছে, পিছনে কেউ তাড়া করেছে। আসলে আমাদেরই পায়ের শব্দ। আমাদেরকেই ভয় দেখাচ্ছে। উঁচু রেললাইন পেয়ে গেলাম। এখান থেকে দুদিকের জঙ্গল অনেকটাই দেখা যায়। ওপারের জঙ্গল তারকাঁটা দিয়ে ঘেরা। ইলেকট্রিক পোলও চোখে পড়লো।

সোনা বললো- ঐ তারে কারেন্ট আছে। বন্য জন্তু আটকাতে সরকারি ব্যবস্থা। ওদিকে যাওয়া যাবে না।

খোয়া ভর্তি রেললাইনে ছোটা অসম্ভব। দ্রুত হাঁটছি। কে আমাদের তাড়া করেছিলো? জানা নেই। একবার দেখবো না তাকে? যাচ্ছি আর ফেলে আসা জঙ্গলের দিকে ফিরে ফিরে তাকাচ্ছি। একটু এগিয়ে দেখলাম, জঙ্গলের মধ্যে অর্ধেক জেগে আছে একটা কাঠের বাড়ি। নিশ্চয় মানুষ বাস করে। ওখানেই যাবো। নিরাপত্তা তো পাবো! যদি সে আসে, দেখাও হবে।   

শালকাঠের প্রায় ছ’ ফুট উঁচু অনেকগুলো খুঁটির উপর দাঁড় করানো বাংলো প্যাটার্নের বাড়ি। ভাঙাচোরা। পরিত্যক্ত। নিচে উপরে একখানা করে ঘর। সামনে কাঠের বারান্দা। ঝুলন্ত সিঁড়ি। ইচ্ছে করলে তুলে উপরে রাখা যায়। বারান্দায় উঠে এলাম। সিঁড়ি তুলে নিলাম। আপাতত নিরাপদ। বারান্দার দু’দিকে দুটো কাঠের বেঞ্চি। একতলার ঘরে দরজা ভাঙা। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলাম। দোতলার ঘর তালা বন্ধ। হয়তো ব্যবহার হয়! বনকর্মী, শিকারী কিংবা আমাদের মতো অতি উৎসাহী প্রেমিক প্রেমিকা অথবা নিষিদ্ধ কেউ বা কারা এখানে রাত কাটায়! সোনা বললো- থাকলে কেমন হয়?

– মরার ইচ্ছা থাকলে, বেশ হয়।

দোতলায় সিঁড়ির চৌকিতে দাঁড়িয়ে দেখলাম, তিনদিকে গভীর জঙ্গল। নিচেই জলাশয়। জল নেই। প্যাঁচপেঁচে কাদা। অসংখ্য জন্তু জানোয়ারের পায়ের ছাপ। খুঁজতে লাগলাম, কোনটা হাতির, কোনটা চিতার কিংবা সাপের চলা। তার মানে বন্য জন্তুরা এখানে জল খেতে আসে। এই ঘর থেকে দেখার ব্যবস্থা। ঘরের দরজায় ঠেস দিতেই ছাদের কাঠ খসে পড়লো সোনার ঘাড়ে। আর্তনাদ করে উঠলো। ঘর খুলে গেলো। তবে রাতে থাকার বাসনা আর নেই। নিচে নেমে বাঁ দিকের বেঞ্চে বসতে গেলাম। পায়ার কাঠ খুলে গেলো। সোনা ডান দিকের বেঞ্চে। গিয়ে বসলাম। এখান থেকে দেখা যায় সামনে তিরতিরে নদীটি, দূরে রেল লাইন, ব্রিজ, রোদেলা স্তব্ধ মাঠ। মর্রীচিকা নাচছে। ব্রিজে ছেলে মেয়ে দুটি তখনও বসে। বিপদ হলে অতো দূর থেকে কিছুই করতে পারবে না। তবু ওদের ভরসাতেই বসলাম। মানুষ, মানুষ দেখলে বল পায়।

সোনা বললো- খাবার কী আছে বের করো।

কাঁধের ব্যাগে লুচি আলুর দম। জল। পেট পুরে খেয়ে, দুটো কমলালেবু বের করলাম। নৈঃশব্দে নেশা হয়। চুপ করে থাকার নেশা। হঠাৎ পাখির কলকাকলি। জঙ্গলে যা সুরের মূর্ছনা ছিলো, কলরবে পরিণত হয়েছে। বেমানান ঠেকলো। কিচিরমিচিরে জঙ্গল জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ভয় ভয় করছে। উঠে দাঁড়ালাম। মাঠের আকাশে ঝলমলে সূর্য। আলোয় আলোময় পৃথিবী ওপারে। মাঝখানে দাগটানা নদী। দুনিয়া দু’ভাগ হয়ে পিছনের জঙ্গলে হা হা অন্ধকার। মজা করে বললাম- গেলে হয় না?

– কোথায়?

– ঐ জঙ্গলে? নিশ্চয় কিছু দেখা যাবে।

ঘাড় বেঁকিয়ে গম্ভীর মুখে বললো- ভয় করছে না?

– তুমি আছো। কীসের ভয়?

- ওই দ্যাখো ছেলেমেয়ে দুটি নেমে গেলো। চলো চলে যাই।

ত্রিসীমানায় কেউ নেই। তিনদিকে ঘন জঙ্গল, সামনে আয়নাবসা নদী, টুকরো আকাশ, শীতার্ত বাতাস। পাখির চেঁচামেচি বেড়েই চলেছে। ডানদিকের জঙ্গলে চোখ রাখলাম। ও রাখলো বাঁদিকে।

বললাম- উঠে গেলেও হয়।

- আমাদের ট্রেন সেই সন্ধ্যে সাতটায়।

বারো ঘন্টার বন্ধ, সন্ধ্যে ছ’টায় শেষ হবে। লেটও হতে পারে ট্রেন। সবে সাড়ে চারটে বাজে। ভালোই লাগছে, আমটি আমটি ভয়।

বললাম- পাঁচটা বাজলেই উঠবো। সামনেই স্টেশন চত্বর। জঙ্গল তিন পাশে রেখে এমন আলো আঁধারি বিকেল হয়তো আর পাবো না। এই কাঠের বাড়িতে রাত কাটাতে না পারি, বিকেলের এই অজানা আশঙ্কা, ভয়, ত্রাসের রোমাঞ্চ কোথায় পাবো?, প্রতি মুহূর্তে বিপদের হাতছানি- এও কি কম পাওয়া!

জঙ্গলের দেশে সূর্য না ডুবতেই ঝুপ করে অন্ধকার নেমে এলো। পাঁচটাও বাজে নি, অথচ সন্ধ্যের ঘোর। একঝাঁক পাখি ঘোর চিৎকারে জঙ্গল ছেড়ে নদী পার হয়ে গেলো। বিপদের ইঙ্গিত। বলে গেলো- জঙ্গল ছেড়ে যাও।

যাবোই তো বাপু। তাই বলে অতিথি কেউ তাড়ায় নাকি! একদল লালমুখো বাঁদর কিচিমিচি করতে করতে নদীর ধারে লাফিয়ে পড়লো। সন্ধ্যের মুখে পাখি, বাঁদর নিজেদের বাসায় ফেরে। এরা বাসা ছেড়ে পালাচ্ছে। নিশ্চয় কোনো বিপদ! আমাদের দিকে তাকিয়ে বাঁদরগুলো নুড়ি পাথর বিছানো চরে হুটোপাটি জুড়েছে। বলছে- পালাও। পালাও।

গোপাল বলেছিলো, বড়ো হিংস্র জন্তুরা আশেপাশে থাকলে বানরেরা কিচমিচিয়ে জঙ্গল ভরে তোলে। মনটা কু ডাকলো। দু’জনেই বাতাস শোঁকার চেষ্টা করছি। বলে উঠলাম- বোঁটকা গন্ধ, পাচ্ছো?

সোনা বললো- মানুষের গন্ধ মিষ্টি একবার পেলে পিছু ছাড়ে না।   

ইয়েস! ডান দিকের ঝোপ নড়লো। ওই তো, হলুদ কালো ছোপছাপ! তড়াক করে ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়েই দু’জনে ছুট। নিচে নদী, মাঠ, জঙ্গল পেরিয়ে আসতে সাহস পেলাম না। ঝপ করে রেল লাইনে উঠে পড়লাম। রেললাইন ধরে সোজা প্লাটফর্মের দিকে...   

- আপনারা কোথায় ছিলেন এতক্ষণ?  

সামনেই স্টেশনমাস্টার। খুঁজতে বেড়িয়েছেন। এক সঙ্গে দু’জন বলে উঠলাম- ওই তো কাঠের বাড়িটাতে।

- এ্যাঁ, মানে!

উনি কি চিতায় আধখাওয়া আমাদের দেখলেন!!    

[অনেক বছর কেটে গেছে। এখনকার গুলমা বিখ্যাত টুরিস্ট স্পট, তখনকার আর নেই। তবু চাইলে যাওয়া সহজ। শিয়ালদহ, হাওড়া যে কোনো রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে সোজা নিউজলপাইগুড়ি। স্টেশনে রিটায়ারিং রুমে থাকার সুন্দর ব্যবস্থা। (বুক করে আসতে হবে।) কোলকাতা এসপ্লানেড থেকে শিলিগুড়ি ভুরিভুরি বাস। বাস থেকে নেমেই এনবিএসটিসি বাসস্ট্যাণ্ডে গেস্ট হাউস। এ ছাড়া অজস্র হোটেল। এনজিপি স্টেশন থেকে আলিপুরদুয়ারের রেলপথে প্রথম স্টেশন গুলমা। ]

About Author
&
Photographer

লেখক : রূপা দাস বিনির্মাণ: সাধন দাস

গল্পকার ও ভ্রমণপিপাসু

আলোকচিত্রী: সব্যসাচী হাজরা

লেখালিখি :  শূন্য দশক

ভালোবাসা : কবিতাপাঠ, ভ্রমণ,  ছবি তোলা, গান গাওয়া , শ্রুতিনাটক

Subscribe

Find Us On

Comments

YOU MIGHT ALSO LIKE

Subscribe

Get the lastest news and updates from Bismoypur


সব্যসাচী হাজরা

Subscribe

Social widget