স্পিতি জার্নি (দ্বিতীয় ভাগ)

পর্ব- ৭ (মুদ ভিলেজ থেকে কোমিক ও হিকিম ভিলেজ ঘুরে লাংজা) ০১/১০/২১
কোথাও এসে অন্যমনস্ক হওয়া যায়। সেখানে স্বপ্নের মত পেয়ে বসে রাস্তা। টালমাটাল কবি কুয়াশা পেরোয়। আর বিড়বিড় করে শীতকালের স্বর।
পরদিন আবার রওনা। এবারে যাত্রা লাংজা ভিলেজের দিকে। মুদ থেকে আবার ব্রিজ পেরিয়ে ডানকারের দিকে এসে কাজা অভিমুখে যাত্রা। এই যাত্রাপথগুলোই স্পিতির প্রধান প্রাপ্তি। ভূমিরূপের অপার বিস্ময়। কোথাও অতলস্পর্শী খাদ, আবার কোথাও পাহাড় ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা বিচিত্র পাথর প্রণামের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রণাম তোমায় হিমালয়। অন্তরের অতলস্পর্শী খাদে তোমার এই বরফস্নাত ভোরের আলো এ কোন হিল্লোল জাগিয়ে দিল!
১১৯৮০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কাজা স্পিতির প্রধান শহর তথা সাবডিভিশনাল হেডকোয়ার্টার। কাজায় কিছুক্ষণ বিরতি। লোকাল মার্কেট ঘোরা। কাজায় জনবসতি অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি। বেশ ভিড়। পর্যটকরা মুলত এখানেই আসেন। তবে ঘিঞ্জি জায়গা আমাদের না পসন্দ। তাই কাজা টপকে এগিয়ে যাওয়া হিকিমের দিকে। মাঝে পড়ল কি মনাস্ট্রি। তবে দূর থেকেই ছবি নিলাম। মনাস্ট্রির ভেতরে প্রবেশ করিনি।
হঠাৎ ডানদিকে একটা টার্ন নিল গাড়ি। তারপরেই হুড়মুড় করে উঠতে শুরু করল আরও ওপরে। আরও ওপরে। বেশ খানিকটা ওপরে গিয়েই দেখলাম ভূমিরূপ আবার বদলে গেছে। যেন পৃথিবীর ছাদে এসে পড়েছি। এর চেয়ে উঁচু জায়গা আর কোথাও চোখে পড়ছে না। পাহাড়ের গায়ে পাহাড়ি হরিণের দল। ওই রুক্ষ পাথরের গায়েই ঈশ্বর ওদের খাদ্যসংস্থান করে রেখেছেন। ছোট ছোট ঘাস খাচ্ছে ওরা। গাড়ি থামিয়ে ছবি নিলাম। স্পিতির যেমন ছবি বুকে নিয়ে এসেছিলাম, হিমালয় সন্তানস্নেহে সেই একই দৃশ্য আমাকে উজাড় করে দিলেন। ধন্যবাদ দিয়ে কাকে ছোট করব? কাকে ছোট করা যায়? যায় না। নীরবতাই শ্রেয়। সেই নীল আকাশ, পেঁজা তুলোর মত মেঘ আর ঝকঝকে রোদ্দুর। বিস্ময়ে জ্ঞান হারালে কেউ দোষ দিও না।
জ্ঞান এমনিও হারাত অবশ্য। ১৪৫৬৬ ফুট উচ্চতায় হিকিম পৌঁছে দেখলাম জোরে হাঁটলেই বুক ধড়ফড়। প্রণবদা মাঝেমধ্যেই মেপে দিচ্ছে হার্টরেট। সাথে অভয়বাণী। “ঠিক পারবি তোরা। খুব ভালো পারবি। এতদূর পারলি যখন, বাকিটাও পারবি দারুণ।’’ বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পোস্ট অফিসে ছবি নেওয়া হল। কিছুক্ষণ থেকে রওনা কোমিকের উদ্দেশ্যে। ১৫৫০০ ফুট উচ্চতার কোমিক ভিলেজ বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম। তীব্র শীতল হাওয়া। রাস্তার পাথর অব্দি নড়ে যাচ্ছে। দিগন্ত জুড়ে হিমালয়। এখানে প্রণবদা খুব বেশিক্ষণ থাকতে মানা করল। কোমিক মনাস্ট্রির ভেতর কিছুক্ষণ থেকে আর কিছু ছবি নিয়েই গাড়ি আবার রওনা দিল ১৪৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ফসিল গ্রাম লাংজার উদ্দেশ্যে। দূরে দেখা যাচ্ছে সেই প্রশান্ত প্রকান্ড বুদ্ধমূর্তি। আজ রাতটা ওখানেই কাটাব।
এই লাংজায় থাকার নেপথ্যে একটা ঘটনা আছে। লাংজায় রাত্রিবাস মূলত আমার আবদারেই। লাংজার ওই বুদ্ধমুর্তি আর নিসর্গ আমাকে বহরমপুরে নিজের ঘরেই গ্রাস করেছিল। ফলে প্রণবদাও রাজি হয়েছিল আমার আবদারে। অবশেষে সেই লাংজা! এখানে একটা কথা বলতেই হয়। শিমলা থেকে কল্পা নাকো টাবো ডানকার মুদ কাজা হয়ে এই যে আমাদের যাত্রা, তার এই অসাধারণ মসৃণতার পেছনে BRO-র (Border Road Organization) অবদান অনস্বীকার্য। এখানকার রাস্তা এত সুন্দর এবং কোনো জায়গায় ল্যান্ডস্লাইড হলে বা রাস্তা সামান্য খারাপ থাকলে রাতারাতি যেভাবে তা মেরামত করা হয়, সেই অমানুষিক পরিশ্রমকে কুর্নিশ না জানালে এই পুরো ভ্রমণযাত্রাকেই অসম্মান করা হয়। জায়গায় জায়গায় আর্মি পেট্রোলিং। স্থানীয় মানুষের অমলিন ব্যবহার এবং সাহায্যপরায়ণতা, রাজ্য সরকারের সদর্থক ও পেশাদার মনোভাব, এককথায় তুলনাহীন। লাংজাতেও, অত উঁচু জায়গাতেও দেখলাম কালো পিচ ঢালা রাস্তার নির্মাণকাজ কী অপরিসীম দক্ষতার সাথে সম্ভব করে তোলা হচ্ছে!
লাংজা পৌঁছে উঠলাম আনজানজির নরখিল হোমস্টেতে। সামান্য আহারের পর লাংজা গ্রামটি দেখতে বেরোলাম। প্রণবদা আনজানজির সাথেই গল্প করতে লাগল।
লাংজাকে ফসিল ভিলেজ বলা হয় তার কারণ এই গ্রামে জীবাশ্ম পাওয়া যায়। টেথিস থেকে হিমালয় হয়ে ওঠার পর্বে যেসমস্ত সামুদ্রিক জীব টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে চাপা পড়েছিল, তাদের জীবাশ্ম এখনও এখানে পাওয়া যায়। এরকমই একটি জীবাশ্ম প্রণবদা কল্পার হোমস্টেতে উপহার দিয়েছে রিশিয়াকে। কিন্তু প্রসঙ্গ এখানেই উঠবে তাই এখানেই সেটা বললাম। আধভাঙা এক জীবাশ্মর টুকরো। অমূল্য। কোনও এক প্যাঁচানো প্রাচীন সামুদ্রিক জীব সেটি। মাছ অথবা অন্যকিছু। তার মৃত্যুর বেদীতে নির্মিত হয়েছিল আজকের হিমালয়। আমার অনুভব হল, এই জীবাশ্মও বুদ্ধ। এই স্পাইরাল প্যাঁচ, বেদীর ওপরে নির্মিত বরফস্নাত এই হিমালয়ও তো আদপে বুদ্ধাবস্থা।
বুদ্ধমূর্তির পাশ দিয়েই উঁচু রাস্তা গেছে মনাস্ট্রি অব্দি। দূরে নীলাকাশের বুক চিরে রোদের আলোয় ঝকঝক করছে CCKM পিক। চাউ চাউ কাং মিল্ডা। মনাস্ট্রি থেকেই দেখছিলাম ছোট্ট গ্রাম লাংজাকে। কয়েকঘর মাত্র অধিবাসী। কী অমানুষিক পরিশ্রম করে জব ঝাড়াইয়ের কাজ করছেন। যেখানে দু পা হাঁটতেই আমাদের মনে হচ্ছে হৃদপিণ্ড মুঠোয় চলে এসেছে, সেখানে এনারা রীতিমত ঘাম ঝরিয়ে চাষের কাজ করছেন। প্রবল শীতে এঁরা কাজায় নেমে আসেন। তখন একমাত্র খাদ্য মাংস আর মুজত করে রাখা শস্য। বাকি দুনিয়ার সাথে লাংজা তখন বিচ্ছিন্ন। আনজানজি বলছিলেন, রাতে কিছুদিন আগেই তুষার চিতার আক্রমণে তার দুটো কুকুরের মৃত্যু হয়েছে। রাতে যাতে না বেরোই, সাবধান করে দিলেন। দুটো স্যাটেলাইট ফোন ছাড়া এখানে কিছু নেই। ডানকারের পর থেকে আমাদের ফোনেও নেটওয়ার্ক ছিল না। আমরাও যেন এক ভবঘুরে। আমাদের পাহারা দিচ্ছেন স্বয়ং সিদ্ধার্থ ও মহান হিমালয়।
দূরে পড়ন্ত সূর্যের আলোয় তখন ঝিলমিলিয়ে উঠছে CCKM।
আনজানজির মুখের হাসির মতই অপাপবিদ্ধ ও পবিত্র সেই হাসি।
পর্ব -৮ (লাংজা থেকে লোসার হয়ে কুনজুম লা ও চন্দ্রতাল হয়ে সিসু) ০২/১০/২০২১
দীর্ঘযাত্রা আজ। তাই সূর্য ওঠার আগে উঠে পড়লাম। রাতে সেভাবে ঘুমোতে পারিনি অক্সিজেনের অভাবে। যদিও শরীরে কোনো কষ্ট ছিল না। সুস্থ ছিলাম প্রত্যেকেই। ভোর পাঁচটায় জুগ্নুজি গাড়ি ছাড়লেন। আনজানজিকে বিদায় জানিয়ে যাত্রা শুরু হল। পেছনে ফেলে এলাম স্বপ্নের গ্রাম লাংজা। যাব কুনজুম লা।
কিছুদূর এগিয়ে কিবের ভিলেজ। এখানে শীতকালে তুষার চিতার ফটোগ্রাফি করতে দেশ বিদেশ থেকে ফটোগ্রাফার আসেন। আরেকটু পরে পড়ল এশিয়ার সবচেয়ে উঁচু ব্রিজ চিচাম। ১৩৫৯৬ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ব্রিজের দুদিকে সুউচ্চ পাহাড় আর নিচে অতলস্পর্শী খাদ। সুতোর মত রাস্তা দেখা যায়। আর পিঁপড়ের মত গাড়ি। বেশিক্ষণ নিচে তাকালে মাথা ঘুরে যায়। এখানে সাময়িক দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তোলার পালা।
এরপর গাড়ি আর দাঁড়ায়নি। যেহেতু প্রায় ১০০-১২০ কিলোমিটার রাস্তা একদিনে কভার করতে হবে তাই গাড়ি এগিয়ে চলল লোসারের দিকে। রাস্তা দুর্দান্ত সুন্দর। প্রকৃতির উজাড় করা সৌন্দর্য অনুভব করতে করতেই আমরা চলে এলাম লোসার। অনেকে এখানে রাত্রিবাস করেন। আমরা সামান্য চা কফি ব্রেকফাস্ট করেই আবার বেরিয়ে পড়লাম কুনজুম লা এর দিকে। লোসার থেকে কুনজুম পাসের দূরত্ব ১৪-১৫ কিলোমিটার মত। কুনজুম লা স্পিতি ভ্যালি এবং লাহুল ভ্যালির মধ্যে অবস্থিত একটি উচ্চতম মোটরেবল পাস। প্রায় ১৫০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাস থেকেই চন্দ্রভাগা রেঞ্জের পিকগুলি একের পর এক দেখা যায়। কুনজুম মাতার মন্দিরে সামান্য বিরতি। পাহাড় যেন গ্রাস করতে আসছে আমাদের। এত কাছ থেকে, এত উঁচু থেকে হিমালয়কে এভাবে কখনও পাইনি। পর্বতের খাঁজে হিমবাহগুলোকে যেন ঢিল ছুড়লে ছুঁয়ে ফেলা যাবে। ঝোড়ো শীতল হাওয়া বইছে। নীল আকাশ। ঝকঝকে রোদ। ছবি তুলতে গিয়ে আমার সাধের টুপিটা এখানেই কোথাও হারিয়ে এসেছি। বেশিক্ষণ দাঁড়ালে শ্বাসকষ্ট হতে পারে যে কারোর, এই আশঙ্কায় স্নেহের বকুনি দিচ্ছে প্রণবদা। জলদি কর। বেশি সময় নিস না। যদিও কিছু হয়নি, তবু অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ শিরোধার্য।
কুনজুম লা পেরিয়ে গাড়ি এগিয়ে চলল ডানদিকে সামান্য টার্ন নিয়েই বাঁ দিকে। আর ১৫ কিলোমিটার এগোলেই চন্দ্রতাল। রাস্তা এখানে প্রচন্ড বিপজ্জনক। পাকা রাস্তা নেই। এবড়ো খেবড়ো পাথুরে রাস্তা। জুগ্নুজির মত অভিজ্ঞ ড্রাইভারও নিঃশব্দে সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। পাশেই চন্দ্রভাগা নদী। একটু এদিক ওদিক হলেই গাড়ি সোজা খাদে। পাথুরে পথের মাঝেমধ্যেই ঢাল। ঝরনার জল গভীর হয়ে জমে আছে। ধুলোয় সাদা হয়ে আছে পথ। সাদা ধুলো উড়ছে চারিদিকে। প্রচন্ড শীতল ঝোড়ো হাওয়া। এখানে চালালে অভিজ্ঞ ড্রাইভারের কালঘাম ছুটতে বাধ্য। পথে দেখলাম একটা গাড়ি পথেরই ঢালে আটকে গেছে। দুদিক থেকে দড়ি বেঁধে তাকে টেনে তোলা হল। পথে দেখলাম অনেক তাঁবু। যারা ট্রেক করে এসে রাতে এখানে থাকেন, তাঁরা তাঁবুতেই রাত্রিবাস করেন।
দীর্ঘ যাত্রার পর অবশেষে গাড়ি থামল এক জায়গায়। আর মাত্র এক কিলোমিটার হাঁটলেই চন্দ্রতাল। হাঁটার পরের যে দৃশ্য, তা ভাষায় প্রকাশ করা কার্যত অসম্ভব। দুটো ছবি দিচ্ছি। অনুভবের দায়িত্ব পাঠকের।
যাত্রা মূলত এটুকুই। ভ্রমণ আরও অনেকদূর। অনুভব আরও আরও।
এরপরের কাহিনী বরং সংক্ষিপ্ত করেই বলি।
চন্দ্রতালে আধ ঘণ্টা থেকে গাড়ি এবার ফিরে চলল লাহুল ভ্যালির দিকে। ফেরার পথে বাতাল ছাত্রু কোকসার হয়ে আরও দীর্ঘযাত্রার পর এলাম লাহুল ভ্যালিতে। ফেরার পথেই কিছু কিছু সামান্য চা পানের বিরতি। পেলাম বিখ্যাত চাচা চাচির ধাবা। এখানে বাইক রাইডারদের ভ্রমণাড্ডা। লাহুল ভ্যালি থেকে আবার পাহাড়ে সবুজের ছোপ। গাছপালার সান্নিধ্য যেন এই কদিন ভুলেই গিয়েছিলাম। কোন এক লাল পাথুরে বরফস্নাত গ্রহ থেকে আবার যেন নিজের গ্রহে আসা। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে রাখা মস্তিষ্কের মুঠোয় মুঠোয়। সন্ধের দিকে এলাম সিসুতে। লাহুল ভ্যালির ছোট্ট এক পাহাড়ি গ্রাম সিসু। এখানে আবার মানুষের কোলাহল। সারি সারি হোটেল। মানুষের আড্ডা। বাজার হাট। দীর্ঘ পরিশ্রমে সকলেই ক্লান্ত। হোটেলে ফিরেই স্নান করে ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া করে বেহুঁশ ঘুম।
সিসু থেকে কিছুদূরেই অটল টানেল। পরদিন, অর্থাৎ ৩/১০/২১ তারিখে বেলা দশটায় সিসু থেকে বেরিয়ে অটল টানেল ক্রস করে আমরা পৌঁছে গেলাম মানালি। মানালি থেকে আবার কুল্লু ক্রস করে সন্ধে নাগাদ পৌঁছে গেলাম সবুজ পাহাড়ে ঘেরা জিভি নামক এক গ্রামে। মূলত বিদেশীদের আড্ডা এই গ্রামে যাওয়া নিছক সময় কাটাতে। কারণ ফেরার ট্রেন আমাদের পাঁচ তারিখের। এই দুদিন কিছু তো করতে হবে। তাই, জিভিতে একরাত থেকে পরের দিন, ৪/১০/২১-এ এলাম জুগনুজির বাড়িতে। শিমলায়।
এই লেখা মূলত স্পিতি ভ্যালি নিয়ে। তাই এসব বর্ণনায় পাঠককে ভারাক্রান্ত করতে চাই না। তবে যা না বললেই নয়, তা হল জুগনুজির পরিবারের আতিথেয়তা। একবারও মনে হয়নি, বাইরে কোথাও আছি। বউদি রান্না করে দিলেন অপূর্ব চিকেনের ঝোল ভাত। পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্যের ভদ্র, নম্র ব্যবহার আমি ভুলতে পারব না। আমরা ভুলতে পারব না কেউ।
সেই সাথেই ভুলতে পারব না, কীভাবে যেন পাহাড় আমার রক্তে জড়িয়ে যাচ্ছে। জড়িয়ে যাচ্ছে প্রণবদা। হিমালয় কীভাবে যেন আমার শিরায় শিরায় খেলা করছে। অমোঘ এক ধ্যান হয়ে উঠছে। কীভাবে যেন শিমলা থেকেই আমি আবার ফিরে যেতে চেয়েছিলাম ডানকারের সেই হোমস্টেতে। ছোট্ট এক পাহাড়ি পাখি হয়ে। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখতে চেয়েছিলাম নাকোতে তাশিজি এখন কী করছেন। কী আঁকছে এখন নভ নেগিজির মেয়ে ছোট্ট ডেজুম? আনজানজি কি খেলেন কিছু কাজ শেষে? CCKM এ সূর্যাস্তের রঙ এখন কেমন, সেসব আবার দেখতে ইচ্ছা করছে। আবার আবার বহুবার।
আমাকে ক্রমশ পেয়ে বসেছে হিমালয়। এক স্বয়ংসম্পূর্ণ যোগমার্গ।
Contact Details:
- Jugnu Raka- 9816080031
- Tashi Homestay- 09459869247
- Yeh Ma Ho Homestay (Dhankar)- 89882-76392/ 89888-72693
- Anjaan’s Norkhyil Homestay (Langza)- 89884-85081/ 89881-10021
প্রথম ভাগ পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।





















Comments